চট্টগামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলা

বাদীর নারাজি সত্ত্বেও আ.লীগের সাবেক তিন মন্ত্রীসহ ২৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:১৯আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩২

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদুল ইসলাম শহীদ হত্যা মামলায় ২৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এটি চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রথম কোনও অভিযোগপত্র গ্রহণ।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা শুনানি শেষে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন এবং চার্জশিট সরাসরি গ্রহণের আদেশ দেন।’

এর আগে, গত ২৪ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফয়সাল তদন্ত শেষে এই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। অভিযোগপত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন, নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, সলিমুল্লাহ বাচ্চু, জিয়াউল হক সুমন ও নুরুল আজিম রনিসহ ২৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আসামিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি পুলিশ তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরের বহদ্দারহাটে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পিস্তল, শটগানসহ ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে আহত হন শহীদুল ইসলাম শহীদ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিহত শহীদের ভাই শফিকুল ইসলাম চান্দগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২৩১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র  দাখিল করেন। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৮৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে মোট ১২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জন সাধারণ নাগরিক, ৯৯ জন পুলিশ সদস্য এবং একজন চিকিৎসক রয়েছেন।

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
পাবনায় কিশোরী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ধর্ষণের শিকার শিশু ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় মামলা
সর্বশেষ খবর
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ নাকি ত্রুটি সংশোধন, কী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী