কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুরের মেঘনা উপকূলীয় ২২টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এবার সারা দেশের উপকূলীয় কেন্দ্রগুলোতে কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ নির্বাচনি মহড়া পরিদর্শন করেন তিনি। পরে মোহনপুর আলী আহম্মদ মিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক।
জিয়াউল হক বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু এবার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। সরকারের পক্ষ থেকে একটি অ্যাপস, ক্যামেরা ও ড্রোনের মতো প্রযুক্তি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করবে। সারা দেশের চরাঞ্চলে কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও আশঙ্কা করছি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস উপকূলীয় এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে যে অবস্থা বিরাজমান আছে, আমাদের উপস্থিতির মাধ্যমে জনগণের মাঝে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, এতে উৎসবমুখর পরিবেশে আমরা ভোটগ্রহণ করতে সক্ষম হবো।’
জিয়াউল হক বলেন, ‘কোস্টগার্ড উপকূলীয় অঞ্চল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে নদীমাতৃক জেলা চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে কোস্টগার্ড।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনিসহ কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা।
কোস্টগার্ড থেকে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ দিনব্যাপী কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ সদস্যের ১০০টি প্লাটুন উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী দুর্গম এলাকায় মোতায়েন থাকবে। ইতিমধ্যে এসব প্লাটুন স্থলভাগ ও জলভাগে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ নদীবেষ্টিত ভোলার দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছে।









