কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনা থেকে দুটি নৌকাসহ সাত জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল ও এর আগে মঙ্গলবার রাতে পৃথক ঘটনায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম।
অপহৃত জেলেরা হলেন, মো. রাসেল (১৮), মো. শরিফ (১২), মো. আবুল কালাম (৫০), মো. ছাদেক (৩০), আবদুর শুকুর (৪০), মো. রবি আমল (১১) ও মঞ্জুর আলম (২৭)। তারা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর সংলগ্ন নাফ নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় একটি নৌকাসহ তিন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একই এলাকা থেকে আরেকটি নৌকাসহ চার মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করা হয়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “এভাবে জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের মধ্যে চরম দুর্দশা নেমে আসবে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গনি বলেন, “মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মি স্পিডবোট নিয়ে ধাওয়া করে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। এতে স্থানীয় জেলেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নৌকার মালিকদের কাছ থেকে শুনেছি। তাদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে গত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়।









