কক্সবাজারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুদ্ধের আড়ালে চাপা পড়েছে রোহিঙ্গা সংকট, প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চলছে

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
০৬ মে ২০২৬, ১৯:৪৯আপডেট : ০৬ মে ২০২৬, ১৯:৪৯

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট চাপা পড়েছে। মূলত যুদ্ধের আড়ালে চাপা পড়েছে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি।’

বুধবার (৬ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিও ও আইএনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে পৌঁছে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। তারা খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন তারা। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিতভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তবু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা এখনও অস্থিতিশীল। তবে রোহিঙ্গাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আমরা চাই তারা নিজ দেশে নিরাপদে বসবাস করুক এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারুক। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে এবং আবাসন ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে—যা উদ্বেগজনক।’ সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, এনজিও ও আইএনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্যোগ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
জাতিসংঘের আশঙ্কার মধ্যেই টেকনাফে ভাসছে একাধিক লাশ, স্থানীয়দের উদ্বেগ
সর্বশেষ খবর
যমজ দুই বোনের সাফল্য দেখে গর্বিত বাবা-মা, খুশি শিক্ষকরা
যমজ দুই বোনের সাফল্য দেখে গর্বিত বাবা-মা, খুশি শিক্ষকরা
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
‘দুই দিন ধরে খাইনি, ভাত নিয়ে আসো’ বলার পর অসুস্থ যুবককে পিটিয়ে হত্যা
‘দুই দিন ধরে খাইনি, ভাত নিয়ে আসো’ বলার পর অসুস্থ যুবককে পিটিয়ে হত্যা
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু