চট্টগ্রামে সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি

প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থে‌কে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে, এখন প্রয়োজন ১০টি স্পিডবোট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৯ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫১আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৮

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক এসব তথ্য জানান।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন।’

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট প্রয়োজন বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দী মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর হবে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, ইফসা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসব দল।

চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন

পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে নিজেও মাঠে থাকার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদে রাখতে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে ১ হাজার ২২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে ১ হাজার ২১০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা মজুত আছে।’

জেলা প্রশাসক আরও জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও মানুষ যেন অভুক্ত না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা (এসওডি) অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জরুরি সভা সম্পন্ন হয়েছে। সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম এবং প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিন-রাত কাজ করছেন।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন বন্যাদুর্গত মা, মানবিক দৃষ্টান্ত দেখালেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন দেড়শ পর্যটক, এখনও আটকা ৪১১ জন
কক্সবাজারে হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন ৫০ হাজার পর্যটক
সর্বশেষ খবর
তথ্য কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটি পুনর্গঠন
তথ্য কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটি পুনর্গঠন
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের’ উদ্বোধন
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের’ উদ্বোধন
প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন বন্যাদুর্গত মা, মানবিক দৃষ্টান্ত দেখালেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা
প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন বন্যাদুর্গত মা, মানবিক দৃষ্টান্ত দেখালেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে মার্কিন হামলা, কাঁপলো ইরান
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে মার্কিন হামলা, কাঁপলো ইরান
সর্বাধিক পঠিত
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
আলোচিত সেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ১৪ জুলাই
আলোচিত সেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ১৪ জুলাই
কেন ইনকিলাব সেন্টার ছাড়লেন জাবের-জুমা 
কেন ইনকিলাব সেন্টার ছাড়লেন জাবের-জুমা 
ফিফার তদন্তে মিসর জয়ী হলে আর্জেন্টিনার কপালে কী ঘটবে?
ফিফার তদন্তে মিসর জয়ী হলে আর্জেন্টিনার কপালে কী ঘটবে?