ভারী বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়েছেন ৫৬১ জন পর্যটক। এর মধ্যে ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকালে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকার সড়ক ডুবে ছিল। পরে ওসব পর্যটককে নৌকা দিয়ে পার করে শহরে পাঠানো হয়।
বাঘাইহাট সেনাবাহিনীর জোন থেকে জানানো হয়, সাজেকে ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। এর মধ্যে থেকে ১৫০ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন। তাদের মধ্যে ১০০ জনের মতো পুরুষ ৪০ জনের মতো নারী ও ১০ জন শিশু ছিল। বাকি যারা রয়েছেন তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাদের জরুরি কাজ আছে তাদের অনেকেই ভেঙে ভেঙে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছেড়েছেন। বাকিরা এখনও আছেন। রুম সার্ভিস দিয়ে থাকবেন তারা। পানি কমলে তারাও গন্তব্যে চলে যাবেন।’
আটকে পড়া পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, জানতে চাইলে সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, পর্যটকদের সাজেক ভ্যালিতে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং যাতায়াতের পরিবেশ তৈরি হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে আনা হবে। সেটি না হলে তারা সাজেকে অবস্থান করবেন। সেক্ষেত্রে পর্যটকদের কাছ থেকে কোনও ধরনের হোটেলভাড়া আদায় করা হবে না। কেবল পানির বিল দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারবেন তারা। খাওয়াদাওয়ার বিষয়েও সহায়তা করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-রাঙামাটির লংগদু-সাজেক সড়ক। সাজেক ইউনিয়ন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় হলেও সড়কপথে খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে হয় পর্যটকদের। বুধবার সকালে পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কের মাচালং, বাঘাইহাটসহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাজেকে অবস্থানরত পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার বিকালে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। তবে আটকে পড়া পর্যটকরা এর আগেই সেখানে যান। বুধবার তাদের ফেরার কথা থাকলেও সড়ক ডুবে যাওয়ায় ফিরতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় গিয়ে সড়কে পানি দেখা গেছে। দীঘিনালা-লংগদু-সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাজেকের মাচালং ও বাঘাইহাট এলাকায় নৌকা চলাচল করতে দেখা গেছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মেরুং এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাতে ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’








