ডুবে আছে হাসপাতাল, ভেলায় ভাসিয়ে রোগীদের নিয়ে আসছেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৪আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৪

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তলিয়ে গেছে। হাসপাতালের সামনের সড়ক ও পাঁচটি ভবনের নিচতলায় এখন হাঁটুসমান পানি। এ অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের পানি ডিঙিয়ে কাঁধে করে এবং ভেলায় ভাসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন স্বজনরা।

এদিকে, জরুরি ও বহির্বিভাগের সাতটি ইউনিট তলিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পাঁচটি ভবনের দোতলার বারান্দায় টেবিল পেতে বহির্বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। 

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সড়কটিতে এখনও হাঁটুসমান পানি। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বাসভবনও ডুবে গেছে। এতে তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। পানি ডিঙিয়ে রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছেন। পুরো হাসপাতাল এলাকার চারদিকেই পানি থইথই করছে। ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে থাকায় অনেক রোগী হাসপাতালে আসতে পারছেন না। কেবল গুরুতর অসুস্থ, আহত ও জরুরি প্রসূতি রোগীদের কোমরপানি মাড়িয়ে হাসপাতালে আনছেন স্বজনরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র ৪৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন। তাদের কয়েকজন জানান, তারা কেউ কোমরসমান, আবার কেউ গলাসমান পানিতে ডুবে থাকা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। পরের দিন তা গলাসমান হয়। কিছুটা কমে এখনো পুরো হাসপাতাল এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। হাসপাতাল ল্যাবের অনেক প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে।

রোগীদের পাঁচটি ওয়ার্ড বিভিন্ন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায়। এসবের একটি মহিলা ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত চার দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছেনু আরা। ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। হাসপাতালে তাকে কেউ দেখতেও আসছেন না।

ছেনু আরার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায়। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে একটি অটোরিকশায় চেপে গত মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একাই সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। পরের দিন তা গলাসমান হয়।

ছেনু আরা বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে আমার বাড়ি প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে আমি একাই থাকি। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। হাসপাতালে ভর্তি আছি জানলে আমার পছন্দের খাবার নিয়ে মেয়েরা দেখতে আসতো। বিদ্যুৎ ও মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকায় এখন তাদের ফোনে জানাতেও পারছি না। হাসপাতালে বাইরের সড়কেও পানি। বাড়িতেও ফিরতে সাহস পাচ্ছি না। হাতে যা টাকা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। কেউ ত্রাণ সহায়তাও দেননি। হাসপাতালে যে খাবার খেতে দেওয়া হয়, তা আমি খেতে পারি না।’

ছেনু আরার মতো অবস্থা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও অন্তত ৩০ জন রোগীর। তাদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। হাসপাতাল ফটকে কথা হয় আবদুস সালাম নামে এক যুবকের সঙ্গে। তিনি ও তার স্ত্রী এওচিয়া ইউনিয়ন থেকে গলাসমান পানি পার হয়ে দেড় বছরের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৬০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় এখন রোগী আসছেন ১০০ থেকে ১৫০ জন। যারা আসছেন তারা অতি প্রয়োজনে আসছেন। হাসপাতাল ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পানির সংকট আছে। বন্যার মধ্যেও ১২টি প্রসব হয়েছে। এখনও হাসপাতালে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। আমরা রোগীদের রান্না করা খাবার দিচ্ছি।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
বান্দরবানে বন্যার্তদের সহয়তায় বিজিবি, ১২২ পরিবার উদ্ধার
পাঁচ জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে
বন্যা পূর্বাভাস নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
সর্বশেষ খবর
২৪০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে এনজিওর পরিচালক, বাসা ঘেরাও করে ধরলেন গ্রাহকরা
২৪০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে এনজিওর পরিচালক, বাসা ঘেরাও করে ধরলেন গ্রাহকরা
বান্দরবানে বন্যার্তদের সহয়তায় বিজিবি, ১২২ পরিবার উদ্ধার
বান্দরবানে বন্যার্তদের সহয়তায় বিজিবি, ১২২ পরিবার উদ্ধার
কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহার নামে নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর নামকরণ
কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহার নামে নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর নামকরণ
স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো যেভাবে বিধ্বস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ফের গড়ছে ইরান
স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো যেভাবে বিধ্বস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ফের গড়ছে ইরান
সর্বাধিক পঠিত
নেশাগ্রস্ত পিতার আঘাতেই প্রাণ হারায় মেয়ে: আদালতে মা
নেশাগ্রস্ত পিতার আঘাতেই প্রাণ হারায় মেয়ে: আদালতে মা
মেসির দুই মিসের পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি কে নেবেন জানালেন কোচ
মেসির দুই মিসের পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি কে নেবেন জানালেন কোচ
সরকারি শিশু পরিবারে কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলো কিশোরী, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা
সরকারি শিশু পরিবারে কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হলো কিশোরী, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা
‘পরীমণিকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক ছিল না’—অভিযানের নেপথ্য জানালেন র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান
‘পরীমণিকে গ্রেফতার করা যৌক্তিক ছিল না’—অভিযানের নেপথ্য জানালেন র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল চালায়নি, তাহলে ইরানে হামলা চালালো কোন দেশ
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল চালায়নি, তাহলে ইরানে হামলা চালালো কোন দেশ