মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে নতুন স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা মেনে চলার বিষয়ে তেহরানের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সিএনএন এবং ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ তালেঘান–২ স্থাপনায় জুন থেকে জুলাইয়ের শুরুর মধ্যে নতুন নির্মাণকাজ চলছে।
ইনস্টিটিউটটির মতে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট ছবিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তালেঘান–২–এর সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ইরান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইটটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের ধাপ পেরিয়ে এখন স্থায়ী মেরামত ও পুনর্নির্মাণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হয়, এই স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্র–সংক্রান্ত গবেষণার পরীক্ষাকক্ষ ও সরঞ্জাম রয়েছে।
ইনস্টিটিউটের পর্যালোচনা করা ছবিতে দেখা যায়, ১২ জুনের মধ্যে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ওপর বোমার আঘাতে তৈরি তিনটি গর্ত অস্থায়ীভাবে ঢেকে দেওয়া হয়। দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথে নিয়মিত যাতায়াতের চিহ্ন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর ব্যবহারযোগ্য একমাত্র প্রবেশপথটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে হামলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উত্তর দিকের প্রবেশপথ এখনও ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে।
১৮ জুনের ছবিতে স্থাপনার বাইরে কয়েকটি ট্রাক ও একটি বড় ক্রেন দেখা যায়, যা পুনর্নির্মাণকাজ শুরুর ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শুরুর মধ্যে দ্বিতীয় দফার হামলায় ধ্বংস হওয়া পাশের সদর দফতর ভবনের ধ্বংসাবশেষও সরানো হচ্ছিল। ২০ জুনের স্যাটেলাইট ছবিতে তালেঘান–২ কমপ্লেক্সের আশপাশের এলাকাও পরিষ্কার করা হয়েছে বলে দেখা যায়।
ভ্যান্টর টেকনোলজিসের ২২ জুন ও ৭ জুলাইয়ের নতুন ছবিতে দেখা যায়, ইরান অস্থায়ী মেরামতের পরিবর্তে স্থায়ী পুনর্নির্মাণে এগিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ২২ জুনের ছবিতে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার দক্ষিণ-পূর্ব কোণ শক্তিশালী করতে নতুন কংক্রিট ঢালাইয়ের দৃশ্যও ধরা পড়ে। অন্যদিকে ৭ জুলাইয়ের ছবিতে দেখা যায়, গর্তগুলোর ঠিক ওপরে একটি ক্রেন কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাদে পৌঁছানো সহজ করতে অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০২৬ সালের সংঘাতে তালেঘান–২ স্থাপনাটি দুই দফা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। প্রথম হামলাটি মার্চের ১১ তারিখের দিকে হয়। এতে মূল ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে যায়। ২৪ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে দ্বিতীয় দফার হামলায় পাশের সদর দফতর ভবনটি ধ্বংস করা হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

হত্যার হুমকি পেয়ে ট্রাম্প বললেন ইরান ‘নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে’







