জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘ছয় মাস না যেতেই বিএনপিকে মানুষ অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনা করা শুরু করে দিয়েছে। আমরা সেই তুলনা এখনই করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। দুইটাকে আমরা আলাদা হিসেবে দেখি। কারণ আওয়ামী লীগ পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড এবং ২৪-এর আন্দোলনে ১৪ শতাধিক মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত গণহত্যাকারী দল। আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি দল।’
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার নগরীর রামঘাট এলাকায় একটি কনভেনশন হলে এনসিপির কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, ‘তবে বিএনপি যদি চাঁদাবাজি করে, তাদের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করে আমরা তাদের চাঁদাবাজ বলবো। তারা যদি জমি দখল করে তাদের দখলদার বলবো। তারা যদি ছাত্রদল-যুবদলের লোক ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায়, আমরা তাদের মাদক ব্যবসায়ী বলবো। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমরা ছাড় দিতে পারবো না। আমাদের হয়তো চোখ তুলে নেওয়া হবে, আমাদের হয়তো রক্তাক্ত করা হবে। কিন্তু আমরা ছাড় দিতে পারবো না। আমরা ওই একটা কারণে মানুষের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য, একটা কারণে মানুষ আমাদের পছন্দ করে এবং মানুষ দেখলে আমাদের দোয়া করে। কারণ আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করি না। এটাই হচ্ছে আমাদের সঙ্গে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্থক্যের জায়গা।’
সারজিস আলম বলেন, ‘আগে দুই দলের রাজনীতি ছিল, দিনের বেলা সংসদে বিরোধিতা হয়েছে, রাতের বেলায় তাদের মধ্যে ব্যবসার সমঝোতা হয়েছে, আত্মীয়তার সমঝোতা হয়েছে, সম্পর্কের সমঝোতা হয়েছে, টাকা ভাগাভাগির সমঝোতা হয়েছে। ওই বিরোধীদলের রাজনীতি আগামী দিনে এনসিপি করতে পারবে না। করলে এনসিপির রাজনীতির অস্তিত্ব থাকবে না। আমাদেরকে ওই লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পার্টিটাকে পার্টি হিসেবে দেশব্যাপী দাঁড় করাতে চাই। ৩১ সালের কথা বলছি, আর ৩৬ এর কথা বলছি না। কারণ আমরা দেখছি, যেভাবে প্রতিনিয়ত বিএনপি তার কাজের মধ্য দিয়ে ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে এনসিপির মানুষ যদি তৈরি করতে পারি, তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের মানুষ আর বিএনপির কথা চিন্তা করবে না।’
এনসিপির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক মো. সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, জাতীয় যুবশক্তি কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং সদস্যসচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি কুমিল্লা উত্তর জেলা সদস্যসচিব রবিউল মনির চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সদস্য সচিব সৈয়দ আহসান টিটু ও মহানগর সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কাওসার।









