বিগত দিনে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার করা হয়েছে: রিজভী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৭আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৭

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিগত দিনে গুমকে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং ভিন্নমত স্তব্ধ করার এক ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন। 

রবিবার (৩০ আগস্ট) গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, অনেক পরিবার আজও জানে না, তাদের প্রিয়জন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, কিংবা আদৌ ফিরে আসবেন কি না। তাদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আমাদের জাতীয় বিবেকের সামনে এক গভীর দায় হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। এ দিনে আমি বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার প্রত্যেক ব্যক্তিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রিজভী বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে তার পরিবার ও সমাজ থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং জীবনের অধিকারের ওপর এক নির্মম আঘাত। বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা, তার ভাগ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে অসহনীয় যন্ত্রণা- তা কোন পরিবারকে বহন করতে হওয়া উচিত নয়।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার পাওয়া, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে রাষ্ট্রের কোনও সংস্থা আর কখনও নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। যেখানে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে জবাবদিহির আওতায়; এবং যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভিন্নতার কারণে কোনও নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিপন্ন হবে না। আমাদের অঙ্গীকার হোক-আর কোনও গুম নয়, আর কোনো পরিবারকে অনন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

রিজভী বলেন, যারা এখনও নিখোঁজ, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করতে হবে। যারা ফিরে এসেছেন, তাদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর যারা আর কখনও ফিরে আসবেন না, তাদের পরিবার যেন সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার পায়-রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি আবারও গভীর শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সংহতি জানান। বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।

/এমকে/আইএএম/
সম্পর্কিত
চাকরি পেলেন গুম-খুনের শিকার নিহতদের ৭৪ স্বজন
বিএনপি দেশ ছেড়ে যাওয়ার ও আত্মসমর্পণ করার দল না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি: আসক
সর্বশেষ খবর
কদমতলীতে ছুরিকাঘাতে রিকশাচালক নিহত
কদমতলীতে ছুরিকাঘাতে রিকশাচালক নিহত
কুর্মিটোলা হাসপাতালে হারানো শিশুটিকে উদ্ধার
কুর্মিটোলা হাসপাতালে হারানো শিশুটিকে উদ্ধার
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনির শপথ রবিবার
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি হাবিবুল গনির শপথ রবিবার
নেপালে বন্যার খবর সংগ্রহে কঠোর নিয়ম, কড়াকড়ির মুখে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা
নেপালে বন্যার খবর সংগ্রহে কঠোর নিয়ম, কড়াকড়ির মুখে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা
সর্বাধিক পঠিত
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’, নেপথ্যে কারা
গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’, নেপথ্যে কারা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট