লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। টাকা নিয়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগে ১৬ নেতার পদত্যাগের পর কেন্দ্র থেকে আগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এর এক মাস পর শুক্রবার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে নতুন কমিটি নিয়েও উঠেছে টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া, আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দেওয়ার অভিযোগ। এসব অভিযোগে নতুন কমিটির ১৮ নেতা শনিবার (২৯ আগস্ট) চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বশেষ রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্যসচিব করে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবদুর রশিদসহ ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্যসচিব আবদুল মুকিত সোহেল কমিটির অনুমোদন দেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর এতে টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলুসহ ১৮ নেতা পদত্যাগ করেন।
এর আগে গত ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক এবং মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদসহ ১৬ নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, টাকার বিনিময়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে এবং তারা প্রত্যাশিত পদ পাননি। এমনকি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বিদেশ থেকে এসে পদ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব বিতর্কের পর ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এর আগে পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক উল্যা অভিযোগ করেছিলেন, তাকে আহ্বায়ক করার কথা বলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের নেতারা দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এ কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে নতুন কমিটিতে তাকেই আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কুশাখালী ইউনিয়নের যুবদলকর্মী ফারুক হোসেন ও ইমন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে, তাকেই পদ দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ ও বিলুপ্তির পর আবার নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি।
তবে টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা। তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসবো। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন বলেন, ‘রাগ-ক্ষোভে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন। ১৮ জনের পদত্যাগের বিষয়টি সত্য নয়। যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে, তারা দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মী।’









