বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা এই সরকারকে খানিকটা সময় দিচ্ছি কিন্তু এই সময় দীর্ঘ হবে না। আপনারা প্রস্তুত থাকুন, চূড়ান্ত ডাক যখন আসবে তখন জীবন বাজি রেখে আপনাদের এবং আমাদের সবাইকে রাস্তায় বের হতে হবে।’
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকা লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা বিদ্যুৎ চান, গ্যাস চান, নিরবচ্ছিন্ন পানি চান। আপনারা সহনীয় দামে জিনিসপত্র চান। আপনারা ওসমান হাদির বিচার চান, শাপলা গণহত্যার বিচার চান। আমাদের পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর যে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার আপনারা চান। ১৫ বছর ধরে সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে, তার বিচার আপনারা চান। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। আপনারা কি বিশ্বাস করেন এই সরকার এই বিচার করবে? ছয় মাস গিয়েছে একটা বিচারের কোনও অগ্রগতি নেই। যা হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওইটুকুই; এখন বসে আছে তারা। জনগণ জানে না তাদের বিচার কি হলো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি কোনও দলীয় দাবি নিয়ে নয়। কাউকে নেতা বানানোর জন্য নয়। আমরা রাস্তায় নেমেছি আবার বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। অথচ ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে জনগণকে সাড়ে ১৭ বছর অনেক সংগ্রাম লড়াই করতে হয়েছে। অসংখ্য জীবন দিতে হয়েছে। এই সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারের কম নয়; শুধু জুলাইতেই ১৪০০-এর বেশি প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু এখন যারা নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করবেন তাদের তাড়াতে ১৭ বছর লাগবে না। আমরা সবাইকে চিনি। কার কতটুকু বুকের পাটা আমরা জানি। আমাদের এখন চোখ রাঙানো হয়, আর এই চোখ রাঙানি কোথায় ছিল সাড়ে ১৭ বছর। সরকারের অনুগ্রহ নিয়ে একটা পারমিশন না পাইলে রাস্তায় ১০ জন মানুষ নামার সাহস আপনারা করেন নাই। এখন চোখ রাঙান? এই চোখ রাঙানি আমরা ভয় করি না। ভয় করি শুধু আল্লাহকে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা দেশের ধ্বংস সাধন করবেন, সর্বপর্যায়ে আপনারা বেপরোয়া নির্লজ্জ বেহায়া দলীয়করণ করবেন। আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে না। জনগণের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবেন। আর বিরোধী দল বসে বসে দেখবে? বীরগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে যেখানেই জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে সেখানেই গর্জন করা, সেখানেই বাধা দেওয়া, সেখানেই প্রতিবাদ করা, সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তোলা। আমরা খানিকটা সময় দিচ্ছি কিন্তু এই সময় দীর্ঘ হবে না। আপনারা তৈরি থাকুন, আপনারা প্রস্তুত? নাকি ভয় পান? আবার বলুন আপনারা প্রস্তুত? প্রস্তুত থাকুন চূড়ান্ত ডাক যখন আসবে তখন জীবন বাজি রেখে আপনাদের এবং আমাদের সবাইকে রাস্তায় বের হতে হবে। যুবকরা প্রস্তুত আছো? আজকে কেঁদে এসেছো? আওয়াজটা একটু জোরে দাও। প্রস্তুত আছো? আমি এবং আমরা সবাই তোমাদের সাথে আছি। তোমাদের ভবিষ্যৎ বলার জন্যই আমরা লড়াই করে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর কাছে পৌঁছে যেতে চাই। আমাদের জীবনের যা পাওনা পেয়ে গেছি। এখন আমাদের তামাম লড়াই তোমাদের জন্য। তোমাদের হয়ে লড়বো। তোমাদের হাতে এমন একটি বাংলাদেশ তুলে দেবো যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ, মা থেকে বোন সবাই যার যার জায়গায় নিরাপদ থাকবে। সম্মানে থাকবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। কোনও মানুষ এই দেশে তার স্রষ্টা ছাড়া কাউকে ভয় করবে না। সেই দেশটি আমরা গড়তে চাই। সেই দেশের জন্য প্রস্তুত হন।’
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও এলডিপির কর্নেল অলি আহমদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।








