বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আসলে দেশবাসী ভালো নাই। আসলেই ভালো নেই। এদিকে এই মুহূর্তে কি বিদ্যুৎ আছে? নাই। আজকে ঢাকা থেকে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন দোকান, মার্কেট, ঘরবাড়ি, ইন্ডাস্ট্রি অতিক্রম করে এসেছি। কোথাও বিদ্যুৎ নাই। কিন্তু বিদ্যুৎ আছে, কোথায় আছে জানেন? বিদ্যুৎ আছে জাতীয় সংসদের ভেতরে। বিদ্যুৎ আছে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িঘরে। উনাকে জিজ্ঞেস করলে বলে কোনও সংকট নাই। এটা কি সত্য না মিথ্যা আপনারা বলেন? মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলতে পারে তাদের দিয়ে দেশের মানুষের কোনও সমস্যার সমাধান হবে না।’
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে ফেনীর মহিপালে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকা লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা বিদ্যুৎ চান, গ্যাস চান, নিরবচ্ছিন্ন পানি চান। আপনারা সহনীয় দামে জিনিসপত্র চান। আপনারা ওসমান হাদির বিচার চান, শাপলা গণহত্যার বিচার চান। আমাদের পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর যে ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে, তার বিচার আপনারা চান। ১৫ বছর ধরে সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে, তার বিচার আপনারা চান। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। আপনারা কি বিশ্বাস করেন এই সরকার এই বিচার করবে? ছয় মাস গিয়েছে একটা বিচারের কোনও অগ্রগতি নেই। যা হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ওইটুকুই; এখন বসে আছে তারা। জনগণ জানে না তাদের বিচার কি হলো।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা দুইটা ভোট দিয়েছেন। একটা সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটা গণভোটে বাংলাদেশকে নিরাপদ এবং সংস্কার করার জন্য। এখনকার সরকারের দল আমরা উভয়ে বলেছি, গণভোট বিজয়ী হলে হ্যাঁ বিজয়ী হলে আমরা তা মেনে নেবো এবং পুরাপুরি বাস্তবায়ন করবো। বর্তমান সরকার কি বাস্তবায়ন করেছে? না। ছয় মাস চলে যাচ্ছে চলে যাবে ১৮০ দিন; এরপর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। প্রথম দিন থেকে এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের এই দাবি মেনে নেওয়া জনগণের প্রতি কোনও অনুগ্রহ নয়, বরং ওয়াদার বাস্তবায়ন। জনগণের ভোটকে অপমান অবহেলা অতীতে যারা করেছে, তাদেরকে করুণ পরিণতি বহন করতে হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার গড ব্রাদাররা দেশের জায়গায় জায়গায় ছিলেন। আপনাদের এখানে ছিল। ছিল না? এখন কি টর্চলাইট জ্বালাইয়া খুঁজে পাওয়া যাবে? কোথায় গেলো? এইযে একটু আগে আমাদের সহকর্মী সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলে গেলেন ঢাকা না দিল্লি আপনারা কি দিল্লি? কোথায়? আমাদের কোনও পিসির বাড়ি নাই। আমাদের কোনও দাদাবাবুর বাড়ি নাই। আমাদের এই বাংলাদেশ গর্বের বাংলাদেশ। এটি আমাদের ঠিকানা। আমাদের ওপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমরা কোন দাদার বাড়ি পিসির বাড়ি খুঁজি নাই, দেশ ছাড়ি নাই। মাটি কামড়ে দেশের বুকে ছিলাম। যারা একটু মেঘ দেখলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা কারা? অতীত বর্তমান সবাইকে আপনারা চিনেন। কথা দিচ্ছি, কালো মেঘ নয় আকাশ থেকে বজ্রপাত হলেও আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন এদেশে আপনাদের সঙ্গে থাকবো আমরা।’
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও এলডিপির কর্নেল অলি আহমদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
এনসিপির সভাপতি নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র চালু করেছে বিএনপি। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটে জড়িয়ে সরকারি দল দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের তেল-গ্যাসসহ চলমান সংকট নিরসন না হলে গদিতে থাকতে পারবেন না।’









