চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমানের মাস্কাট থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫৩৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে ১০৬ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার, ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণপিণ্ড ও ৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট। এ ঘটনায় মোহাম্মদ হাসান মুরাদ (৩৭) নামের ওই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মূল্য প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
এ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাস্কাট থেকে সালাম এয়ারের ফ্লাইট ওভি-৪০১ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে আসা যাত্রী কাস্টমস হলের স্ক্যানিং কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিমানবন্দর ডিজিএফআই, এনএসআই ও কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাগেজ তল্লাশি করেন।
তল্লাশির একপর্যায়ে ওই যাত্রীর ব্যাগেজের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ব্যাগেজ থেকে ১০৬ গ্রাম স্বর্ণের অলংকার, ৪২৫ গ্রাম স্বর্ণপিণ্ড ও ৩ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ৫৩৪ গ্রাম।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বর্ণগুলো ব্যাগেজের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ কারণে কাস্টমসের স্ক্যানিং কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে যাত্রীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ব্যাগেজে পৃথকভাবে তল্লাশি চালান। তখন লুকানো স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়।
আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ হাসান মুরাদ (৩৭)। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের আবু আহমেদের ছেলে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বর্ণ পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীদের সন্দেহজনক গতিবিধি ও ব্যাগেজের ওপরও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।









