ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইতোপূর্বে বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমনের পর টিকেটের মূল্যে পরিশোধ করলেন এক যাত্রী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর পক্ষে যাত্রীর ভাতিজা এসে যাত্রীর পূর্ব ভ্রমনের টাকা পরিশোধ করেন। ট্রেনের পূর্বের ভাড়া পরিশোধকারী মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান জেলার সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাধিকা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সৌদিআরব প্রবাসী ছিলেন।
জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার সুল তানপুর ইউনিয়নে রাধিকা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। তিনি অতীতে কোনও এক সময় বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ করেছেন। এমন উপলব্ধি থেকে তিনি নিজের বিবেকের তাড়নায় সোমবার দুপুরে তার ভাতিজাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পাঠিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব খাতে ৫ হাজার টাকা জমা দেন।
বিকেলে পারাবত-জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও কালনী-পাহাড়িকা এক্সপ্রেস নামে এক ফেসবুক পেইজে এই যাত্রীকে নিয়ে পোষ্ট দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার। এটি সততার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই যাত্রী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী কবির হোসেন তালুকদার বলেন, ভুল করে এক সময় তিনি টিকেট ছাড়া ট্রেনে ভ্রমণ করেছে। এখন রেলওয়ে থেকে দায় মুক্তির জন্য তিনি ট্রেনে পূর্ব ভ্রমনের ভাড়া প্রদান করেন। তার পক্ষে তার ভাতিজা দুপুরে রেলস্টেশনে এসে রেলওয়ের রাজস্ব খাতে ৫ হাজার টাকা জমা দেন। উনি এই কাজ করাতে আমরা রেল কর্তৃপক্ষ খুব খুশি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রকৃত মহত্ত্ব প্রকাশ পায় নিজের ভুল উপলব্ধি করা এবং তা সংশোধনের সাহসের মধ্য দিয়ে। সততা শুধু অন্যের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হওয়ার নাম নয়; সততা হলো নিজের বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকা। নিজের অতীতের
কোনও ভুল মনে পড়লে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই প্রকৃত দায়িত্ববোধের পরিচয়। মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তার এই পদক্ষেপ সমাজের অন্যদেরও সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার পথে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরো বলেন, যারা বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমন করেন তারা যদি ওনার মত ভাবতেন, তাহলে রেল ও দেশের উন্নত হতো।
‘আপনারা ভালো থাকেন’, দেশ ছাড়ার কথা জানালেন সেই রুমি