চট্টগ্রামে ১৬ বছরের কিশোর মো. হৃদয় হত্যা মামলায় অবশেষে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শুনানি শেষে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর ওয়াকিল হোসেন বগাকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করলে তা গ্রহণ করে শুনানির জন্য রাখেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘হৃদয় হত্যা মামলার তদন্তে সন্ত্রাসী বগার নাম এসেছে। আমরা আদালতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করি। আদালত আজ শুনানি শেষে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।’
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সন্ত্রাসী বগার অনুসারী সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার নামের দুটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে হৃদয় নিহত হয়। এ ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ওই মামলার পর অভিযান চালিয়ে আট কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করলে তাদের স্বীকারোক্তিতে বগার নাম উঠে আসে। পরে ওই মামলায় বগার নাম সংযুক্ত করে পুলিশ। গত ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র কার্যালয়ে বগা অবস্থান করছেন এমন তথ্য পেয়ে সেখানে যায় খুলশী থানা পুলিশ। প্রথমে পুলিশ নগর ভবন ঘিরে ফেলে। পরে বগাকে ধরতে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।
এ সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুলিশকে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডাও হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার ফয়সাল আহমেদ উপস্থিত হন। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায়।
অভিযান চালানোর পরদিন বন্দর নগরীর ঈদগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু সচেতনতামূলক এক কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, বগাকে ধরতে ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন মেয়র বলেছিলেন, ‘তিনি (রহিম) আওয়ামী লীগ আমলে বাকলিয়ায় ওসি ছিলেন। তাহলে এখন তিনি কীভাবে খুলশীর ওসি হলেন? খুলশী থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের কাউকে গ্রেফতার করেননি।’
ওয়াকিল আওয়ামী লীগের অপশাসনের শিকার উল্লেখ করে মেয়র সেদিন বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন বগা আওয়ামী লীগের কোনও সন্ত্রাসী নন। তিনি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং ১৭ বছর সংগ্রাম করেছেন। ওয়াকিল একজন জুলাইযোদ্ধা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করা হয়েছিল।’
এর কয়েক ঘণ্টা পরই আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। পরে তাকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে পাঠায় পুলিশ সদর দফতর।
এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ১৭ অক্টোবর বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তখন থেকে বগা কারাবন্দি আছেন।
পুলিশের ভাষ্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের নগর কমিটির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, হামলা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং বিস্ফোরক আইনে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর গত ৮ জুন বগাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বগা খুলশীর কিশোর গ্যাংগুলোর অন্যতম নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত হৃদয় ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন। হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আটজন ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের সদস্য। ওয়াকিল হোসেন বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি ‘সেভেন স্টার’ গ্যাং পরিচালনা করেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিজয়, কামরান ও শান্তর নেতৃত্বে ‘ফাইভ স্টার’ গ্যাং পরিচালিত হয়।
‘সন্ত্রাসী’ বগাকে ধরতে অভিযান: অবশেষে চট্টগ্রাম ছাড়তে হলো ওসিকে