রাতে দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রার সময় মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন যাত্রীরা। টিকিট দেখানো, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কিংবা গন্তব্যে পৌঁছে গাড়ির ব্যবস্থা করার জন্য ফোন সচল রাখা জরুরি। কিন্তু রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনের কামরায় থাকা চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে রেলকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় রেল বোর্ড।
‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবরের নির্দেশিকায় রেলের বিভিন্ন জোনকে রাতে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলন্ত ট্রেনে একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনার পর বৈদ্যুতিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় রেলে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। এই সময় যাত্রীরা সাধারণত ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে চার্জ দেওয়ার সময় কোনও যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি দেখা দিলে তা সহজে নজরে নাও আসতে পারে। আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনা এড়াতেই এই বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় নিয়ম কার্যকর করার পাশাপাশি রেলকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং আচমকা পরিদর্শনের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন কামরায় এই নিয়ম কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাতে ট্রেনে মোবাইল বা অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আগুন লাগার আশঙ্কা। ব্যাটারিতে ত্রুটি, ক্ষতিগ্রস্ত চার্জিং সরঞ্জাম কিংবা অতিরিক্ত তাপের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সম্প্রতি এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক ট্রেনের চার্জিং পয়েন্টে লাগানো অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া বেরোতে শুরু করে বলে জানা যায়। নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ না করায় ট্রেনের কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া, রাতে ফোন চার্জে বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে চুরির আশঙ্কাও থাকে। এই ধরনের ঝুঁকি কমাতেই নির্দিষ্ট সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নিয়ম করা হয়েছে।
২০১৩ সালে হজুর সাহিব নান্দেড়-কে এস আর বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থ্রি-টিয়ার কামরায় আগুন লাগার ঘটনার পর ২০১৪ সালের জুন মাসে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করে রেলওয়ে বোর্ড। দক্ষিণ রেলওয়ে সার্কেলের রেলওয়ে সেফটি কমিশনার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন। পরে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় নির্দিষ্ট সময়ে চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া তুলনামূলক সহজ। কিন্তু নন-এসি বা স্লিপার ক্লাসের কামরায় নিয়ম কার্যকর করা কিছুটা জটিল। আগে রেলওয়ে বোর্ড জানিয়েছিল, এই বিধিনিষেধ মানাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে, যা খরচের কারণে কঠিন।
নতুন নির্দেশিকায় রেলের বিভিন্ন জোনকে নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তবে আগের সমস্যার কারণে সব কামরায়, বিশেষ করে নন-এসি কামরায়, নিয়মটি সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রাতে ট্রেনে যাত্রা করলে আগেই মোবাইল পুরোপুরি চার্জ করে নেওয়া ভালো। সঙ্গে রাখতে পারেন সম্পূর্ণ চার্জ করা পাওয়ার ব্যাঙ্ক। টিকিটের তথ্য, গন্তব্যের ঠিকানা এবং জরুরি ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখুন। প্রয়োজনে ফোনের ব্যাটারি সেভার মোড চালু করে চার্জ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারেন।
মনে রাখতে হবে, এই নিষেধাজ্ঞা ট্রেনের চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ, রাতে ফোন ব্যবহার করা যাবে, তবে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনের চার্জিং পয়েন্ট থেকে ফোন বা অন্য যন্ত্রে চার্জ দেওয়া যাবে না। তাই যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে রাতের সফরে অযথা অসুবিধায় পড়তে হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি