পাহাড়ে ‘বিচার’, জঙ্গলে পড়ে রইলো দুই জনের লাশ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:১৯ আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:১৯

মাদকের চালান ছিনতাই ও আত্মসাতের বিরোধের জেরে চার জনকে ধরে নিয়ে গেছে পাহাড়ে। সেখানে বিচারের নামে চালানো হয় নির্যাতন। এতে প্রাণ গেছে দুই জনের। আহত অবস্থায় আরও দুই জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পৃথক দুটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর প্রকাশ আব্বুয়া (৩০)। দুই জনই হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে মোক্তার কামালের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পানখালী এলাকায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তাদের উদ্ধারে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার ইলিয়াস (৩৫) ও আলী আহমদকে (৪০)।

আহত ইলিয়াসের দাবি, এক লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইয়ের পর ৩০ হাজার পিসের হদিস না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে মিজান নামের এক ব্যক্তি বিচারের কথা বলে তাদের চার জনকে হ্নীলায় পাহাড়ি অস্ত্রধারী মাদক গ্রুপের হাতে তুলে দেন। পরে তাদের পাহাড়ে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এতে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ থাকা আলী আকবরের লাশ পরে উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ইয়াবা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক চালানকে কেন্দ্র করে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আহত আরও দুই জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাহাড়ি মাদককারবারীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
অস্ত্রসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার
সুনামগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের সংঘর্ষে আহত ৩০
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরও এমপি আজিজের বিষয়ে নীরব কেন জেলা বিএনপির একাংশ
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রী সফরে আসছেন, তাই বদলে গেলো খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক
প্রধানমন্ত্রী সফরে আসছেন, তাই বদলে গেলো খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক
কমান্ডারদের ওপর হামলা হলে ‘শত্রু নেতাদের’ হত্যার হুমকি ইরানের
কমান্ডারদের ওপর হামলা হলে ‘শত্রু নেতাদের’ হত্যার হুমকি ইরানের
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ জনের মৃত্যু
ডাচ বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা, তদন্তে পিবিআই
ডাচ বাংলার কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মামলা, তদন্তে পিবিআই
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
চাঁদাবাজির মামলায় চার্জশিট দাখিল ‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে ওয়াই-টাইপ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হবে ওয়াই-টাইপ
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত