আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বদলে গেছে খুলনা-মোংলা মহাসড়ক। নতুন সাজে সেজেছে খুলনা মহানগরী। নগরজুড়ে চলছে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সড়ক, সড়ক বিভাজক, দেয়াল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এসেছে নান্দনিকতা।
আর খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ থেকে মোংলা পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল, সেই ভাঙাচোরা রাস্তাটি এখন নতুন রূপ পেয়েছে। রাস্তায় পিচ ঢালাই, কার্পেটিং ও সংস্কারের কাজ করা হয়েছে।
খুলনা মহানগরীর প্রবেশদ্বার গল্লামারী সেতু এলাকার ভাঙাচোরা সড়কের বিভিন্ন অংশেও ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের জায়গাগুলোতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর স্মরণীয় করে রাখতে প্রচলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে নগরী সাজানোর বদলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা গ্রাফিতি।
এসব চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়েছে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। স্থান পেয়েছে জুলাইয়ের স্মৃতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ঐতিহ্যবাহী পাটকল এবং ক্রীড়াঙ্গনের গৌরবগাঁথা।
মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়ক বিভাজকের আগাছা পরিষ্কার করছেন। শের-ই-বাংলা সড়কের নিরালা অংশ থেকে ময়লার স্তূপ ও অস্থায়ী স্টল সরিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে। শিববাড়ী মোড়ের ডিভাইডারের ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়েছে। বিবর্ণ ডিভাইডারগুলোতে দেওয়া হচ্ছে রঙ। রাস্তার পাশের উন্মুক্ত ডাস্টবিনও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে এসব স্থান দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হতো পথচারীদের। এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন তারা।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, রূপসার কুদির বটতলা থেকে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরেবাংলা রোড, পাওয়ার হাউস মোড় পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেবেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। সফর ঘিরে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও কর্মসূচিস্থল সাজানোর পাশাপাশি নেওয়া হচ্ছে নানা সাংগঠনিক উদ্যোগ।
খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, জেলার ৯ উপজেলায় বিএনপি নেতারা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছেন। ব্যাপক জনসমাগমের মাধ্যমে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানানোই তাদের লক্ষ্য।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন নগরী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফর শেষ হওয়ার পরও নগরীর সৌন্দর্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নগরবাসী এ উদ্যোগের সুফল পান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অবতরণের পর সড়কপথে যাতায়াতের জন্য খুলনা, বাগেরহাট ও মোংলার কাজ গত ৩ নভেম্বরের মধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তার চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী, সভা মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিদিন এলাকা পরিদর্শন করছেন। খুলনা মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ থেকে মোংলা পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল, সেই ভাঙাচোরা রাস্তাটি নতুন রূপ পেয়েছে। রাস্তায় পিচ ঢালাই, কার্পেটিং ও সংস্কারের কাজ চলছে। একই সাথে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে, যা চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাগেরহাট ও খুলনা জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সভাস্থল থেকে শুরু করে রাস্তা সংস্কার ও নিরাপত্তা সবকিছুই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে।