মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন আহত শিক্ষক। বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর সদর থানার এসআই আইয়ুব আলী ঘটনার তদন্তে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন তিনি বেশ সুস্থ ছিলেন। হামলার পর মাদারীপুরে জনগণের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিমের ছবি দেখালে শিক্ষক রিপন তাকে চিনতে পারেন। ফাইজুল্লাহ ফাহিম তার মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ মেরেছে বলে শনাক্ত করেন তিনি। মামলার এজাহারে তথ্যটি উল্লিখিত হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে বরিশালে হাসপাতালে উপস্থিত শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও তাদের পরিবারের লোকজনকে মামলা করার অনুরোধ করা হলে তারা এ ঘটনায় আতঙ্কিত ও বিচলিত জানিয়ে আর মামলা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব আলী মামলাটি দায়ের করেন।
আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিমের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়েরের সময় তার পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে এরূপ; পিতা: গোলাম ফারুক, সাং দারিয়াপুর, থানা ও জেলা চাপাই নবাবগঞ্জ এবং বর্তমান ঠিকানা: বাড়ি নং ১২৯ (দ্বিতীয় তলা), লেন-৫, টিআইসি কলোনী, ফায়েদাবাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা।
মামলায় আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলো সালমান তাসকিন ওরফে আবুল হোসেন ওরফে সালিম (১৯), শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ (২২), জাহিন (২৩), রায়হান (২৪), মেজবা (২৪)। শুধুমাত্র জনগণের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম ছাড়া বাকি সবার নাম ও পিতার এবং ঠিকানা অজ্ঞাত। তারা সবাই মাদারীপুরে শিক্ষক হামলার ঘটনায় অংশ নিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে ফাইজুল্লাহ ফাহিম। মামলায় আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী সদর থানার এসআই আইয়ুব আলী বলেন, মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে সদর থানার অপর পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বারেক করিম হাওলাদারকে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশ-পাশ থেকে জব্দকৃত রক্তমাখা পোষাক, হামলায় ব্যবহৃত ভারী ও ধারালো চাপাতি ও একটি দস্তানা এবং পরবর্তীতে অভিযানে ফাইজুল্লাহার ব্যবহৃত ল্যাপটপসহ জব্দ করা অন্যান্য আলামত থানায় রাখা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জনগণের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম নিজে এবং সালমান তাসকিন ওরফে আবু হোসেন ওরফে সালিম ও শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ নামের ৩ জন ওই শিক্ষককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে। তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে মেজবা, জাহিন ও রায়হানসহ ৩ জনের আরেকটি দল। তারা ঘটনাস্থলের বাইরে পাহারায় ছিল।
আসামিরা উগ্রপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। পুলিশের ধারণা, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে প্রভাষককে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে তারা। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে সদর থানার ওসি’র নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকাও যেতে হয়েছে। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধি ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৪/১০৯/ ১১৪ ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর আবেদন করা হয়।
মাদারীপুর সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, মামলা দায়েরের পর ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে শুক্রবার বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট সাইদুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তের স্বার্থেই দীর্ঘমেয়াদী রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তারা উত্তরাঞ্চলে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে এবং আগামীতে দক্ষিণাঞ্চলেও বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, দেশের এই প্রথম মাদারীপুরে এই প্রথম জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্ট কাউকে হাতে-নাতে আটকের ঘটনার গভীরতা অনেক বেশি। পুলিশ সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে। খুবই ধূর্ততার সঙ্গে ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশকে ভুগিয়েছে। যেসব তথ্য দিয়েছে সেই অনুযায়ী অভিযানে গিয়ে কোনও কিছুই মেলেনি। সে নিজে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ধ্যান-ধারণার কথা স্বীকার করলেও তার লিংকের কোন তথ্যই প্রকাশ করছে না।
আরও পড়ুন: ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব, এ ঘটনায় আমি জড়িত নই: আদালতে ফাইজুল্লাহ
/এইচকে/








