মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ ও জড়িত নন বলে দাবি করেছেন ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামি ফাইজুল্লাহ ফাহিম।
শুক্রবার আদালতের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী একমাত্র বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুর রহমানের আদালতে ফাইজুল্লাহকে হাজির করা হলে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।
মামলার নথি দেখার পর বিচারক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাইজুল্লাহ ফাহিম অস্বীকার করে উচ্চকণ্ঠে বলে, ‘ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব, এ ঘটনায় আমি জড়িত নই।’
‘তুমি কিভাবে এখানে এসেছ’ বিচারকের এ প্রশ্নের জবাবে ফাহিম বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলাম (কক্সবাজারে তার নানা বাড়ি)। সেখান থেকে মাদারীপুরে এসেছি। এখানকার স্থানীয় এক নেতা আমাকে এই ঘটনায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে।’
বিকেলে গায়ে একটি পাতলা গেঞ্জির উপর বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তায় মাদারীপুর পুলিশ লাইনের মধ্যে অবস্থিত ইন্টারোগেশন সেল থেকে তাকে দুই কিলোমিটার দূরে মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে হাতে হাতকড়া ও দু’পাশে কঠোর প্রহরায় খালি পাঁয়ে হেঁটে তৃতীয় তলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আসেন তিনি।
মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মাদারীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইয়ুব আলী। তিনি জানান, শিক্ষক রিপনের পরিবারে পক্ষ থেকে মামলা দায়ের না হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলো সালমান তাসকিন ওরফে আবুল হোসেন ওরফে সালিম (১৯), শাহরিয়ার হাসান ওরফে পলাশ (২২), জাহিন (২৩), রায়হান (২৪), মেজবা (২৪)। শুধুমাত্র স্থানীয়দের হাতে আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম ছাড়া বাকি সবার নাম ও পিতার এবং ঠিকানা অজ্ঞাত।
শুক্রবার আদালতের অধিবেশনে বিচারক নথি পর্যালোচনা করে পুলিশের ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদনের বিপরীতে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সদর থানার একটি সূত্র জানান, রিমান্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আটক ফাইজুল্লাহ ফাহিম যেভাবে হামলা করেছে তা দেশব্যাপী জঙ্গি হামলার করে হতাহতের ঘটনার ন্যায়। সে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, ফাইজুল্লাহ ফাহিম জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে সে একেক সময় একেক জঙ্গি সংগঠনের নাম উল্লেখ করছে। তাছাড়া শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মাদারীপুরের একটি চক্রও জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চাঞ্চল্যকার এই মামলার বিস্তারিত জানান জন্য অন্ততপক্ষে ১৫ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’
মাদারীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) শাহজাহান মিয়া জানান, আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করার পর পুলিশ ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, তদন্তের স্বার্থেই দীর্ঘ মেয়াদি রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার গভীরতা অনেক বেশি। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে খুবই ধূর্ততার সঙ্গে ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশকে ভুগিয়েছে।
ওসি জানান, নিজে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ধ্যান-ধারণার কথা স্বীকার করলেও তার লিংকের কোনও তথ্যই প্রকাশ করছে না। যে সব তথ্য দিয়েছে সেই অনুযায়ী অভিযানে গিয়েও কোন কিছুই পাওয়া যায়নি। আশা করি শিগগিরই বিস্তারিত জানানো যাবে।
/এইচকে/








