গোপালগঞ্জের সাহসী সন্তান বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে গোপালগঞ্জবাসী শোকে স্তব্ধ। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তরাঁয় বন্দুকধারীদের গুলিতে সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে গোপালগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে আসে। গোপালগঞ্জের মানুষ সালাহউদ্দিনের বাড়িতে জড়ো হয়ে শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাহসী, ন্যায় পরায়ণ, সদালাপী এ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সালাহউদ্দিনের পরিবারের সদস্য, স্বজন-বন্ধুরা তার মৃতুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
সালাহউদ্দিন গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ার মরহুম আব্দুল মান্নান খানের ছেলে। তার বাবা গোপালগঞ্জ এস.এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সালাহউদ্দিন ছিলেন পঞ্চম। তিনি ১৯৮৪ সালে স্টার মার্কস নিয়ে শহরের এস.এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে তিনি সুদান ও বসাবোতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যান। তিনি জাতিসংঘ শান্তি পুরস্কারও পান। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী রোমকিম গৃহিনী। বাবার মৃত্যুর পর সালাহউদ্দিন সংসারের হাল ধরেন।
সালাহউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রবাল বলেন, সালাহউদ্দিন মানুষ হিসেবে খুবই ভালো ছিল। বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে ছিল সুসম্পর্ক। মানুষ বিপদে পড়লেই সে সাহায্য করতো। সে মিরপুর থানায় থাকা অবস্থায় সেখানে সবার সহযোগিতায় একটি পাঁচ তলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছে। কোনও পুলিশ সদস্য অসুস্থ হলে বা অসহায় হয়ে পড়লে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছে। নিরপরাধ মানুষদের রক্ষা করতে গিয়েই সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
ব্যাংক পাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মুকুল, থানাপাড়ার বাসিন্দা মহাসীন শেখ বলেন, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করতেন সালাউদ্দিন। তিনি একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। সাহসিকতার জন্যই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তিনি গোপালগঞ্জের মানুষকে নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসতেন। গোপালগঞ্জবাসীও তাকে খুব ভালবাসত। তার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জের মানুষ শোকাহত ও ক্ষোভে স্তব্ধ।
সালাহউদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন,দোষীদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। এ ঘটনার পেছনে কারা আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমার ভাই অত্যন্ত সাহসী, পরোপকারী, ন্যায় ও কর্তব্যপরায়ণ পুলিশ অফিসার ছিলেন। ক্রিমিনালরা তাকে যমের মতো ভয় পেতো। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে বিপদগ্রস্ত জিম্মিদের সাহায্য করতে গিয়েই তিনি প্রাণ দিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করতে গিয়েই মারা গেছেন। তাকে শহীদের মর্যাদা দিতে হবে।
সালাহউদ্দিনের প্রতিবেশী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চু বলেন, বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র নস্যাতে সালাহউদ্দিনের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। সরকারের কাছে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও মদদদাতাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সালাহউদ্দিনের ভাই রাজি উদ্দিন খান আইজিনার বলেন, সালাহউদ্দিনের মরদেহ আমরা গোপালগঞ্জে এনে দাফন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে তার মরদেহ ঢাকার বনানীতে সমাহিত করা হবে।
আরও পড়ুন: রবিউল ও সালাউদ্দিনের জানাজা বিকাল সাড়ে ৫টায়
/বিটি/টিএন/আপ-এআর/








