
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রয়েছেন। এমনকি পুলিশি পাহারায় চোখের ডাক্তারও দেখিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিকালে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা কিনতে যান তিনি। এসময় দোকানের চারপাশ পুলিশ ঘিরে রাখে। কারও সঙ্গে তাকে কথা বলতে দিচ্ছে না পুলিশ। শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এক পুলিশ সদস্য জানান, তার নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
ডাক্তার দেখানো প্রসঙ্গে শ্যামল কান্তি জানান, ১৩ মে ঘটনার পর থেকে চোখে ঝাপসা দেখছেন। চশমাও ভেঙে গেছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চোখের ডাক্তার দেখিয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা কিনেছেন। তার শারীরিকভাবে ভালো আছে। তিনি সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় রয়েছেন।
রবিবার (১০ জুলাই) ২ মাস পর নিজ কর্মস্থলে যোগদান শেষে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চোখের সমস্যার জন্য সাত দিনের ছুটির আবেদন করেন শ্যামল কান্তি। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত ছুটি মঞ্জুর করেন স্কুলটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা।
গত ১৩ মে শ্যামল কান্তিকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে স্কুল কমিটির লোকজন ও স্থানীয় জনগণ প্রথমে লাঞ্ছিত করে। পরে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান কানধরে ওঠবস করান। তবে এ বিষয়ে তিনি লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষকের প্রাণ বাঁচাতে এ কাজ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন সেলিম ওসমান।
ওই দিন রাতেই শ্যামল কান্তিকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরদিন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২০ মে পুলিশের প্রহরায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেয়। সেই থেকে তিনি পুলিশের প্রহরায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় হামলার হুমকি জঙ্গিদের
/এসটি/








