খোঁজ মেলেনি পিনাক-৬ লঞ্চের, মেলেনি বেওয়ারিশ দাফন হওয়া ১৮ জনের পরিচয়ও

জহিরুল ইসলাম খান, মাদারীপুর
০৪ আগস্ট ২০১৬, ১১:১১আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৬, ১২:০১

পিনাক ৬ পদ্মায় স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ। সব মিলিয়ে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে সরকারি হিসেবেই নিখোঁজ ৬১ জন। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে ২১ জনকে মাদারীপুরের শিবচরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি ১৮ জনের পরিচয় চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। হদিস মেলেনি দুর্ঘটনার শিকার পিনাক-৬ লঞ্চটিরও। দুই বছর পরও নিখোঁজদের পরিবারগুলোর দিন কাটছে আপনজন হারানোর নিদারুণ কষ্টে।

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটে ২০১৪ সালের ২ আগস্ট চলাচালকারী পিনাক-৬ লঞ্চটির যে ছবি তোলা আছে সেটিই এখন পিনাকের শেষ স্মৃতি। ঈদ শেষে রাজধানীমুখী অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকায় ৪ আগস্ট আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায় লঞ্চটি। পাশের একাধিক লঞ্চের উৎসুক যাত্রীদের মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিওতে এমনই দৃশ্য ধরা পড়ে।

কোনও হদিস মেলেনি পিনাক-৬ এর

লঞ্চ দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পরে অত্যাধুনিক সোনার স্ক্যানার যন্ত্রের সাহায্যে খোঁজ করে ব্যর্থ হওয়ার পর আর কোনও অনুসন্ধান চালায়নি অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

স্থানীয়দের ধারণা, লঞ্চটি উল্টে গিয়ে পদ্মার তীব্র স্রোতের তোড়ে অনেক দূরে ভাটিতে চলে গেছে। এক সময় বালুর আস্তরণ পড়ে পদ্মার বুকেই বালুর নিচে চাপা পড়েছে।

লঞ্চ উদ্ধারের ব্যাপারে সর্বশেষ নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছিলেন, লঞ্চ উদ্ধার করা বড় কথা ছিল না। বড় কথা ছিল নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। লাশ উদ্ধার করা হলেও তা শনাক্ত করা যায়নি। উদ্ধার কাজ করতে অনেক সময় চলে গেছে তাই উদ্ধার তৎপরতা বাতিল করে দিয়েছি।

স্বজন হারানোর শোকের দুই বছর

ওই দুর্ঘটনায় বাবার সামনে সন্তান, সন্তানের সামনে বাবা, ভাইয়ের হাত থেকে বোন, বোনের হাত থেকে ভাই ছুটে গিয়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় পদ্মা নদীতে। মাদারীপুরের শিবচরে আপন দুই বোন স্বর্ণা ও হীরা এবং তাদের এক খালাতো বোন লাকী লঞ্চ দুর্ঘটনার আগে ফেসবুকে দেওয়া ছবিটিই এখন শেষ স্মৃতি হয়ে আছে পরিবারের কাছে। বাবার সামনেই নদীতে ভেসে যায় দুই মেয়ে। হীরার লাশ পাওয়া গেলেও অপর দুজনের লাশ পাওয়া যায়নি। মেয়েকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। তুলে রাখা ছবিগুলোই এখন তাদের শেষ স্মৃতি।

নিহত হীরা ও নিখোঁজ স্বর্ণার বাবা শিবচর পৌর এলাকার আব্দুল জলিল মাতুব্বর বলেন, মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় দুইবছর হয়ে গেল। কিন্তু এ কষ্ট আজও মেনে নিতে পারছি না। সরকারের কাছে একটাই দাবি, এমন ঘটনা যেন বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনও না ঘটে সেই বিষয়ে যেন বিশেষ নজরদারি দেয়।

নিহত স্বর্ণা ও হীরার মায়ের দাবি, উদ্ধারের পর তার মেয়ে হীরা বেঁচে ছিল। যদি মাওয়া ঘাটে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর সুযোগ হতো তাহলে হয়তো সে প্রাণে বেঁচে যেত। অর্থ আয়ের জন্য জন্য মানুষের সেবার জন্য হীরা ডাক্তার হতে চেয়েছিল। আর সেই মেয়েটি চিকিৎসার অভাবে মারা গেলে।

তিনি বলেন, আমার দাবি এত বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা মানুষের জন্য, দুটি ঘাট। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা রাখা হোক। আগামীতে যেন আমার মত কারও বুক খালি না হয়।

নিহত হীরা ও স্বর্ণার মামা ইছাহাক হোসেন বলেন, আমার এক ভাগিনি লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যায়। নিখোঁজ থাকে আরও এক জন। কিন্তু এ দুর্ঘটনার দুই বছরেও দোষীদের বিচার হয়নি। আমরা দ্রুত সরকারের কাছে দোষীদের বিচার দাবি করছি।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে আসা ভাগ্যবান কয়েকজন

২০১৪ সালে ঈদ শেষে ঢাকা ফেরার সময় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই থাকায় ৪ আগস্ট আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় পিনাক-৬ লঞ্চটি। পাশের একাধিক লঞ্চের উৎসুক যাত্রীদের মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিওতে সেই দৃশ্যের পুরোটাই ধরা পড়ে। যারা দেখেছেন তারাও আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন। 

এদিকে লঞ্চ দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়াদেরও এখনও তাড়া করে ফেড়ে সেই দুর্ঘটনায় ভয়াবহ স্মৃতি। অন্ধকার রাতে উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকার কথা এখনও তারা ভুলতে পারেনি।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি গ্রামের নূরুল আমিনের ৮ বছর বয়সী ছেলে সাঈদ ও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সাবিনা।

সাঈদ জানায়, ‘লঞ্চ যখন দুলছিল তখন আমরা উপরে (ছাদে) উঠি। লঞ্চ যখন ডুইব্যা যায় তখন আমরা নদীতে লাফ দেই। হেরপর হাতার (সাঁতার) দিয়ে কিছু দূর যাই। কত দূর গেলে সিবোটওয়ালা আইয়া আমারে উডাইছে। ঘাটে নিয়া আমারে একটা চিপস খাইতে দিছে। এরপর দেখি আমার বোন ঘাটে। আমি তখন তাগো কইছি ওই যে আমার বোন। এরপর আমারে বাড়িতে নিয়া আইছে।’

অপর উদ্ধার হওয়া শিবচরের ১৩ বছর বয়সী সাবিনা। সে তার মামাকে নিয়ে বেঁচে থাকলেও তার ছোট এক বোন ও বড় এক বোনকে হারিয়েছে পদ্মায়। উদ্ধার হওয়ার কথা বলতে গিয়ে সাবিনা  জানায়, ওপরে লঞ্চের জানলার কাছে ছিলাম। আমার বইনে ভেতরে ছিল। আমাগো ভিতরে নিয়ে আসে। এরপর পর পর দুইডা ঢেউ আইয়া লঞ্চটা উল্টাইয়া গেল। লঞ্চের তলে পইরা গেছিলাম। একবার ডুব দিয়ে দেখি মাথা নিছে, আবারও ডুবি দিছি দেহি মাথা দরজার সামনে তখন গুতা খাইছি। বাইরাইয়া একটা ড্রাম পাইছি। দেহি অনেক লোক ড্রাম ধইরা রইছে। ধাক্কাইয়া আমিও ড্রাম ধরছি। আমার থেইক্যা ১৫ হাত দূরে দেহি আমার মামা, ড্রাম নিয়া তারেও উদ্ধার করছি। তারপর কিছু সময় ঢেউয়ের মইধ্যে ছিলাম। অনেক পরে একটা স্পিডবোট আইয়া আমাগো উদ্ধার করছে।

দুর্ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী বাপ্পী জানান, তার সঙ্গে ছিল তার চাচা ও চাচাতো বোন হীরা, স্বর্ণা ও খালাতো বোন লাকী। ঢেউ দেখে তার বোন হীরা বলেছিল তার ভয় লাগছে। তখন তাকে অভয় দিয়ে বাপ্পী জানান, এই পথে আগে কোনদিন কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। তাই কোনও চিন্তা নাই। হঠাৎ করে লঞ্চ কাৎ হয়ে ডুবে যাওয়ায় এক হাত দিয়ে হীরাকে ধরে সাতরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একটি ছোট শিশু তার ঘাড়ের উপর এসে জড়িয়ে ধরে। নিজেকে সামলাতে না পেরে শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় সে। এ সময় হীরাও তার হাত থেকে ছুটে যায়। এক পর্যায়ে নিজেও অচেতন হয়ে পড়েন। এক সময় টের পায় স্পিডডবোট থেকে তার জামার কলার ও জিন্স প্যান্টের পেছন দিকে বেল্টসহ হাত দিয়ে ধরে কে জেনে টেনে তাকে পানি থেকে তুললো। এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পর থেকে সেই শিশুটির কথা তার আজও মনে পড়ে।

নিখোঁজদের পরিবারে হতাশা

পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি ও শিবচর উপজেলার বেশ কয়েকটি পরিবারে ৩ থেকে ৪ জন করেও নিখোঁজ রয়েছে। দেখতে দেখতে দুই বছর পার হয়ে গেছে ঠিকই। কিন্তু নিখোঁজদের পরিবারের দিন যেন কাটতেই চায় না। অনেকে স্বান্তনাটুকুও পাননি।

এমনই একজন দুর্ভাগা কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ কাজী। অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে দেখতে ঢাকার উদ্দেশ্যে পিনাক-৬ লঞ্চে ওঠেন তার মা হিরনন্নেছা বেগম, ভাই স্বপন কাজী, ভগ্নিপতি জাহিদ হাওলাদার, শ্যালক আলামিন, স্ত্রী তিশা ময়না ও ৯ মাস বয়সী ছেলে তৌফিক। এদের মধ্যে দুর্ঘটনার পর পাড়ে উঠতে পারেন ভাই স্বপন কাজী ও ভগ্নিপতি জাহিদ হাওলাদার। মা হিরন নেছা বেগম ও শ্যালক আলামিনের লাশ পাওয়া গেলেও স্ত্রী তিশা ময়না ও ৯ মাস বয়সী ছেলে তৌফিকের লাশ খুঁজে পাননি সবুজ কাজী।

ডাসার ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ কাজী বলেন, আমি ডিএনএ টেস্টের ব্যাপারে কিছু জানি না। কোথায় টেস্ট করা হইছে, কিভাবে টেস্ট করা হইছে। আমার বা আমাদের পরিবারের কারও ডিএনএর নমুনা নেওয়া হয়নি। সরকারের দেওয়া টাকা পেয়েছি এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তা গ্রহণও করেছি। কিন্তু মা, স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। মায়ের লাশ পেলাম। কিন্তু স্ত্রী ও সন্তানের লাশও পেলাম না। 

একই ধরণের হতভাগ্য শিবচরের সন্নাসীরচর গ্রামের মৃত আনোয়ার মুন্সীর স্ত্রী সুরাতন নেছা। তিনি দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন তার ছেলে বিল্লাল হোসেন, মেয়ে শিল্পী আক্তার, মেয়ে জামাই ফরহাদ হোসেন ও নাতি ফাহিমকে। তাদের কারও লাশই পাওয়া যায়নি। লাশ না পাওয়ায় এই পরিবার ক্ষতিপূরণও পাননি।

সুরাতন নেছা জানান, আমরা এমনিতেই গরীব। দুর্ঘটনার পর ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও নাতনির লাশ খুঁজতেও বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়। এখন ছেলে না থাকায় সংসারের আয়ের উৎস বন্ধ। পেটের ভাত জোগাড় করতেই কষ্ট হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা তিনি পাননি।

এদিকে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাস জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রত্যেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। একটি পরিবার টাকা নিতে রাজি হয়নি। এছাড়া নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে আবেদন করা হলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ বা আবেদন করা হবে।

লতা-পাতায় ঢেকে গেছে বেওয়ারিশ কবরগুলো

পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনায় লাশ উদ্ধার হওয়ার পর নিয়ে আসা হতো শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে দাফন করা হয়েছে নাম-পরিচয়হীনদের, সেই শিবচর পৌর কবরস্থানেও এখন আসে না স্বজন হারানো কেউ। পঁচা-গলা অসংখ্য লাশ রাখার কারণে বেশ কয়েক মাস বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পেত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে নতুন করে রঙ করা ও স্কুলটি মেরামত করার পর সেই লাশ রাখার স্মৃতি এখন শিক্ষার্থীদের তাড়া করে না। বিদ্যালয়টি চলছে স্বাভাবিকভাবে।

পিনাক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া কয়েকটি লাশ ছাড়াও শিবচর পৌর কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ২১ জন মানুষ। অযত্ন অবহেলায় তাদের কবরগুলো এখন ঢেকে গেছে লতা-পাতার জঙ্গলে। কারও বাবা, কারো মা আবার কারও ভাই-বোন ও স্বজনের লাশ যে এখানে, তা তারা হয়তো জানতেও পারবে না কোনদিন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, লতা-পাতার জঙ্গলে ঢেকে গেছে কবরগুলো। হঠাৎ করে বোঝার উপায় নেই এখানে কোনও কবর রয়েছে। সাংবাদিকদের দেখতে পেয়ে পৌর কবরস্থানের তত্ত্বাবধায় এসে একটি কবরের লতা-পাতা পরিস্কার করে বাঁশের চটি দিয়ে বেড়া দেওয়া কবরের সঙ্গে লাগানো একটি সাইনবোর্ড বের করেন। সেখানে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতের কবর এবং একটি কবরের নম্বর লেখা দেখতে পাওয়া যায়।

শিবচর পৌর কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক জানান, এই কবরগুলো পদ্মায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের যাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বেওয়ারিশ লাশের খোঁজে এখানে কেউ আসেনি। চারপাশ থেকে লতাপাতা ঘিরে রেখেছে কবরগুলোকে। আরো আগেই পরিষ্কার করা দরকার ছিল। এক দিনের মধ্যে না পারলেও দুতিন দিনেই সব লতা-পাতা পরিস্কার করে রাখা হবে। কবরের যে পরিচর্যাটুকু পরিবারের লোকজন করেন, আমরা তাই করবো।

বেওয়ারিশ লাশের প্রসঙ্গে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ে শিবচর পৌর কবরস্থানে দাফন করা ২১টি মরদেহের মধ্যে ৩টির ডিএনএ টেস্ট মিল পাওয়ায়ওইসব  পরিবারকে লাশের কবর শনাক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শক্তি প্রদর্শন ও সড়ক অবরোধ

লঞ্চ দুর্ঘটনায় পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক ও লঞ্চের ৫ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর মাওয়া ঘাটের পরিদর্শক (টিআই) জাহাঙ্গীর ভূইয়া। এই ঘটনায় ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হন আবু বকর সিদ্দিক। গত বছরের ২ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবু বকরকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন। হাইকোর্টে দেওয়া জামিন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতও করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এছাড়া কাওড়াকান্দি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা দুর্ঘটনার পর ৮ আগস্ট এবং ১৫ আগস্ট দুই দফা ৮ ঘন্টা ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-পথ অবরোধ করে রাখে ইজারাদারের লোকজন। এছাড়া তখন কাওড়াকান্দি ঘাটের দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে মামলা প্রসঙ্গে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর কাওড়াকান্দি ঘাটে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, সাংবাদিক ও জেলা প্রশাসনসহ সর্বস্তরের সহযোগিতায় কোনও ধরণের সমস্যা ছাড়াই এবারের ঈদের আগে ও পরে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। মামলা তার আইন অনুযায়ী চলবে। আমাদের ক্ষেত্রে কাওড়াকান্দি ঘাটে কোন ধরণের অপতৎপরতা হতে দেওয়া হবে না।

 

আরও পড়ুন- 

প্রগতিশীল দলগুলোকে পাশে না পেলে জামায়াতকে ছাড়বে না বিএনপি
নিউ জেএমবি, শীর্ষ নেতা উত্তরবঙ্গের এক ‘বড় হুজুর’

/এফএস/ 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি