পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা শরীয়তপুরের তিন শতাধিক পরিবার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০১৬, ১০:১৪আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৬, ১১:০০

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা শরীয়তপুরের তিন শতাধিক পরিবার শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙনে গত দুই দিনে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রচণ্ড স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় রবিবার থেকে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কলমিরচর বাজারসহ অর্ধ শতাধিক পাকা স্থাপনা ও দুই হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই কুন্ডেরচর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়। তবে ভাঙনের তীব্রতা অনেক কম ছিল। কিন্তু গত দুই দিনে নদীর প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কলমিরচর বাজার পুরোটাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এই বাজারে ২৩১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ভেঙে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ২০টি প্রতিষ্ঠান নদীতে তলিয়ে যায়। এছাড়া কলমিরচর জামে মসজিদসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক পাকা বাড়ি ও দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সময় স্বল্পতায় বাড়ির মানুষ শুধুমাত্র ঘরের মালামাল নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছেন। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আরও প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থ ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেককেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা শরীয়তপুরের তিন শতাধিক পরিবার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের মমিন আলী খালাসি কান্দি গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার টিনের ঘর ভেঙে সরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার প্রতিবেশী সিরাজ খালাসি, জৈনদ্দিন খালাসি ও ইকবাল খালাসির পাকা বাড়ি হওয়ায় ঘরের ভেতরের মালামাল ছাড়া কিছুই নিতে পারেনি।

সত্তর বছর বয়সী আলী আশ্রাফ মাদবর বলেন, জীবনে ৪/৫ বার ভাঙনের শিকার হয়েছি। কিন্তু ভাঙনের এমন ভয়াবহতা আগে দেখিনি। চোখের পলকে সব নদীতে চলে যাচ্ছে। অসহায় মানুষ নিজেদের মালামালও ঠিকমতো সরিয়ে নিতে পারছে না।

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা শরীয়তপুরের তিন শতাধিক পরিবার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোতালেব মোল্যা বলেন, নদী ভাঙনের কারণে চলতি মৌসুমে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের পাচ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। আমি নিজেও বাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কারণে অনেককেই ঘরবাড়ি সরাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, আমি ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদের সাধ্যমতো সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন:
মীর কাসেমের ফাঁসির রায় বহাল

/বিটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের