মানিকগঞ্জে আমদানিকৃত বেশিরভাগ ইউরিয়া সারই জমাট বাঁধা। জমিতে এই সার ব্যবহার করলে কৃষি জমি ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। বিসিআইসি থেকে পাঠানো এই সার সরবরাহ বন্ধের দাবি করেছেন কৃষক ও ডিলাররা।
বাংলাদশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক প্রতি মাসে মানিকগঞ্জে ৫ হাজার ১২৮ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়। অক্টোবর মাসে মানিকগঞ্জ জেলায় এই পরিমাণ সার বিতরণ করা হয় ৬৯ জন ডিলারের মাঝে।
ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডের সাব ডিলার সোহরাব উদ্দিন বলেন, ঘোড়াশাল সার কারখানা থেকে মোট ২৪০ বস্তা সার ক্রয় করেছি। কিন্ত এর মধ্যে সেখান থেকে ৪০ বস্তা ইউরিয়া সারই জমাট বাঁধা। কৃষক এই সার নিচ্ছে না।ফলে প্রচুর টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের লোকজনকে জানানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদরের ডিলার আবু বক্কর খান তুষার বলেন, আমাদের যে জমাট বাঁধা সার দিয়েছে এতে আমরা ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছি। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছি এই সার দেওয়া বন্ধ করা হোক। কৃষকদের মাঝে আমরা যেন ভাল মানের সার দিতে পারি।
আরেক ডিলার জানান, প্রতি ১২টন সারে জমাট বাঁধা সার দেওয়া হয়েছে দু্ইটন। প্লাস্টিকের প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি ওজনের জমাট বাঁধা এই সার বিক্রি করতে পারছেন না ডিলাররা। কৃষকরা এই সার কিনছেন না। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে তাদের।
কৃষকরা জানান, ফসলের ক্ষতির কথা চিন্তা করে শীতকালীন শাকসবজিসহ সরিষা ও অন্যান্য ফসলে এই জমাট বাঁধা সার ব্যবহার করছেন না তারা। ভালমানের সার কিনতে বেশি দাম দিতে হচ্ছে তাদের। তাই ভালমানের সার পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলীমুজ্জামান মিয়া জানালেন, ডিলারদের গোডাউনে সরেজমিন পরিদর্শনে জমাট বাঁধা সারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জমাট বাঁধা এই সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ না থাকায় সারের গুনাগুন নষ্ট হয়েছে। জমিতে এই সার ব্যবহার করলে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জমিরও ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বলেন, মানিকগঞ্জে কিছু জমাট বাঁধা সার এসেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভাল সারের সাথে খারাপ সার মিশিয়ে দিয়েছে। জমাট বাঁধা সারের ব্যাপারে এরই মধ্যে বিসিআইসি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। কৃষির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার মাধ্যমে জমাট বাঁধা সারের পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/বিটি/








