গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজছাত্রকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে পুলিশি হয়রানির অভিযোগে পাওয়া গেছে। মাহাবুল আলম জনি নামে ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় মাওনা সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা আব্দুল কাদের শ্রীপুর পৌর শহরের চন্নাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওনা চৌরাস্তার কনফেকশনারি ব্যবসায়ী।
ছাত্রের বাবা আব্দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় রবিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরের পর দোকানে যাননি। তার ছেলে বিকালে প্রাইভেট পড়ে সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানে কেনাবেচা করে। পরে রাত ৯টার দিকে দোকান থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়। এসময় শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল হক দুজন কনস্টেবল নিয়ে ফ্লাইওভারের নিচে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তাকে ডেকে নিয়ে থানায় যাওয়ার কথা বলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠায়। সেখান থেকে থানায় নিয়ে তার পকেটে ইয়াবা আছে বলে অভিযোগ তোলে।
তিনি আরও জানান, ওই রাতেই ছেলেক ছাড়িয়ে আনতে থানায় গেলে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তার কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে জানায়। তাকে ছেড়ে দিতে ওই এএসআই তিন লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ী বলে মামলা দেওয়ার হুমকিও দেয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৮১ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করলে তাকে ও তার ছেলে দুজনকেই মাদকসহ নানা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে ইয়াবা ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত নয়।এছাড়া কোনও প্রকার মাদক সেবনেরও অভ্যাস নেই।
এ ব্যাপারে মাওনা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মিলন হোসেন জানান, মাহাবুল আলম জনি তার কলেজের দ্বাদশ বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। এখন পর্যন্ত তার ব্যাপারে মাদক বিক্রি বা সেবনের কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে এএসআই মাজহারুল হক জানান, জনির কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। তবে কী পরিমাণ পাওয়া গেছে তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। কেন ছেড়ে দেওয়া হলো তা জানতে চাইলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান।
/এআর/








