ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে যুবক হত্যার দায়ে দুই যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেল তিনটার দিকে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এই আদেশ দেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার তারাটি চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাবুলের ছেলে রাসেল মিয়া এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার বিছামনি গাংপাড় গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া। রায়ে একই সঙ্গে তাদের উভয়কে আলাদাভাবে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার অন্য একটি ধারায় (৩৯২/৩৪) উভয়কে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপর আরেকটি ধারায় (৩০৭/৩৪) উভয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
গাজীপুর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হারিছউদ্দিন আহম্মদ জানান, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ রাত ৯টার দিকে নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার মিঠাপুকুর ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মোমিন (১৮), বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের আব্দুল অজিজের ছেলে আবু সাঈদ (১৮) ও কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার সাবেক রুমকা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে হাছান মাহমুদ (২৬) বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ওঠেন। ট্রেনটি টঙ্গী রেলস্টেশন অতিক্রম করার পর ছাদে অবস্থান করা ৪/৫ জন সন্ত্রাসী তাদের মারপিট করে। সন্ত্রাসীরা তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এসময় বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাদেরকে ট্রেনের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মমিন ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আবু সাঈদ ও অপর যুবক হাসান মাহমুদ গুরুতর আহত হন। পরদিন সকাল ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার এসআই আদম আলী ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই রাসেল মিয়া ও মুন্না মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ (বুধবার)এ রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন-
শৃঙ্খলা না মানলে দলে থাকার দরকার নেই: ওবায়দুল কাদের
/এপিএইচ/








