জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, সবার সম্মতিতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, সেশনজট নিরসনসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাণ-বৈচিত্র্যের প্রতি সংবেদনশীল হিসেবে জাবির স্বতন্ত্র পরিচয় থাকলেও বর্তমানে তা হুমকির মধ্যে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য লিখিত প্রস্তাব দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি। যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ, বৃক্ষ নিধন, বনভূমিতে আগুন, বাণিজ্যিকভাবে জলাশয় ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’
প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষেণে প্রশাসনের সদিচ্ছা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম.এ. মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদূরপ্রসারী কোনও পরকল্পনা নেই। প্রশাসন যাচ্ছেতাইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। এভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।’
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘পরিবেশ-প্রকৃতি ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব অর্থহীন। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না।’
‘এক বিভাগের জন্য একটি ভবন’ নীতি থেকে সরে এসে পরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ করে শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনের আহ্বান জানান শিক্ষকরা। এজন্য প্রস্তাবিত স্বতন্ত্র আইআইটি ভবন ও আইবিএ ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন ও মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌহিদ হাসান শুভ্র, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউর রহমান সানসহ প্রমুখ।
/এআর/







