এফআইআর খাতা থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
০৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:১৯আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:১৯

ওসি মো. আহসান উল্লাহ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানায় এফআইআর  খাতা থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে অপহরণ মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিনকে নিয়ে এক সদস্যের এ কমিটি গঠিত হয়।

জেলা পুলিশ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে এফআইআর   খাতার পাতা ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিনকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল উদ্দিন জানান, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে একই নম্বরে দুটি মামলা রুজু, কোর্টে কপি না পাঠিয়ে এফআইআর  খাতা থেকে মামলার কপি ছিঁড়ে ফেলা এবং আসামি গ্রেফতার করে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এফআইআর খাতা থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এ দিকে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির খবর। মাদক নির্মূলের নামে অনেক সাধারণ মানুষকে থানায় ধরে এনে মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হতো বলে এলাকার অনেকের অভিযোগ। তবে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

প্রসঙ্গত, কটিয়াদী উপজেলার বীর নোয়াকান্দি গ্রামের আসাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি একই গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রবিন মিয়াসহ (১৯) তিনজনকে আসামি করে কটিয়াদী থানায় একটি মামলা করেন। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ মামলাটি রেকর্ড করার পর ওই দিনই মামলার প্রধান আসামি রবিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পাঠানো ভিকটিমকে মাঝপথ থেকে থানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মেয়েটিকে তুলে দেওয়া হয় বাবার হাতে। ওইদিন গভীর রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় মামলার এফআরভুক্ত আসামি রবিনকে। রেকর্ডভুক্ত মামলার কপিও কোর্টে পাঠানো হয়নি। ২২ জানুয়ারি ১২টা ১৫ মিনিটে রুজু হওয়া মামলার (মামলা নং -১৩, এফআইআর  ফরমের সিরিয়াল নং- ০১৭১৩৭১৩) এফআইআর  বই থেকে প্রাথমিক তথ্য বিবরনীর পাতাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একই নম্বরে কটিয়াদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। (মামলা নং -১৩, এফআইআর  ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৪)।

/বিএল/

আরও পড়ুন:
এফআইআর খাতা থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি