টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পূর্বঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত লাঙ্গুলিয়া নদী দূষণ ও দখলের ফলে পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়েছে। মানুষসহ গবাদী পশুর ওপর পড়ছে এ দূষণের প্রভাব। বিপন্ন পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছে নদীর দুইপাড়ের মানুষ। নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না অভিযোগ করে এলাকাবাসী জানায়, এ অবস্থা চলতে থাকলে দখল ও দূষণে হারিয়ে যাবে এককালের ঐতিহ্যবাহী এ নদী।
তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হওয়ার কারণে টাঙ্গাইল, সিঙ্গাইর, টেংগুরিয়া, ছাতিহাটী, বেহালাবাড়ি, রতনগঞ্জসহ কয়েকটি গ্রামে ছোট বড় অনেকগুলো সুতা প্রসেস মিলসহ সুতা রং এর কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি লাঙ্গুলিয়া নদীতে ফেলা হয়। রয়েছে অনেক পোল্ট্রি ফার্ম। বল্লা হাটের সব ধরণের ময়লাসহ প্রতিদিনই জবাই করা পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট এ নদীতেই ফেলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীটি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।
প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর দু’পাশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ নদীর পানি পান করে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাঁস মুরগি মারা যাচ্ছে। বল্লা গ্রামে নদীর পাড়ে বসবাসকারী পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সুজিত বলে,‘নদীতে নেমে গোসল করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু পানি পচা। পানিতে নামলেই শরীর চুলকায়। তাই এ পানি এখন ছুঁয়েও দেখি না।’
ওই এলাকার পরেশ চন্দ্র রাজবালা বলেন, ‘নদীটি এখন প্রায় মইরা গেছে। অথচ একসময় এই নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতাম। নদীর পানি দিয়া এলাকার লোকজনের কাজ চলতো। সারাবছর বড় বড় নৌকা,লঞ্চ, স্টিমার চলতো এই নদী দিয়া। সবই এখন স্মৃতি।’
নদী পাড়ের বাসিন্দা সোহাগী বেগম বলেন,‘নদীর পানিতে ধোয়া-মাজা কিছুই করা যায় না। হাঁস-মুরগি নদীতে গেলে বাড়িতে আসার পর তা মরে যায়।’
অপর এক বাসিন্দা শেফালী রানী রাজবর বলেন,‘সবার বাড়ির টয়লেটের কুয়ার নাইন নদীর সঙ্গে যুক্ত। যে কারণে সবসময় দূর্গন্ধ ছড়ায়।’
ভাই ভাই প্রসেস ফ্যাক্টরির ম্যানেজার মো. শরিফ হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে শুধুমাত্র তরল ডিটার্জেন্ট ব্যবহার করে সুতাটি গরম পানিতে সেদ্ধ করে প্রসেস করা হয়। কোনও প্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। তবে যারা সুতা রং করে তারা কেমিক্যালের ব্যবহার করে থাকে।’
বল্লা এলাকার সুতা ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান ও আলমগীর জানান,‘কাপড়ে রং করার জন্য নানা ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। তবে সব রং বিষাক্ত থাকে না। তবে লাল ও কালো রং করতে গেলে বিষাক্ত কেমিক্যাল লাগে।’
এ ব্যাপারে পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) গবেষণা কর্মকর্তা সোমনাথ লাহিড়ী বলেন,‘পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার জন্য নদী দূষণমুক্ত করাসহ এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘নদীর জায়গা কেউ দখল করে থাকলে অবশ্যই দখল মুক্ত করা হবে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন,‘এরইমধ্যে লাঙ্গুলিয়া নদী দখল ও দূষণ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য অ্যাসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/ জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত








