কানসাটে বৃহত্তম আমবাজারে বেচাকেনা বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
০৭ জুন ২০১৭, ২০:৩৮আপডেট : ০৭ জুন ২০১৭, ২০:৫০

বেচাকেনা বন্ধ কানসাট আমবাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে দেশের বৃহত্তম আমবাজারে আমের ওজন ও আড়তদারদের কমিশন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তিন দিন ধরে আম বেচা-কেনা বন্ধ রয়েছে। এতে করে কাঁচা-পাকা আম নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আমচাষিরা। আড়তদার সমিতি ও ব্যাপারিরা বলেন, প্রশাসনের হুমকি-ধামকি নয়, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। তবে প্রশাসন বলছে, যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আমবাজারে কয়েক যুগ ধরেই চলে আসছে ৪৫/৪৬ কেজিতে মন। কিন্তু এবার প্রান্তিক আমচাষিরা ডিজিটাল মাপযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ৪০ কেজিতে মন বিক্রির দাবি তোলেন জেলা প্রশাসনের কাছে। ফলে জেলা প্রশাসন নির্দেশনা দেয়, ৪০ কেজিতে মন ধরতে হবে এবং চাষিদের কাছ থেকে আড়তদাররা কোনও কমিশন নিতে পারবে না। তবে গত ২৫ মে থেকে সরকারিভাবে আম পাড়া ও বাজারজাতকরণ শুরু হলে কানসাট আম বাজারের আড়তদাররা ৪৬ কেজিতে মন এবং কমিশন কাটা শুরু করে। ফলে আমচাষি ও আড়তদারদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই জের ধরে গত সোমবার (৫ জুন) থেকে এখানকার বাজারে আম বেচা-কেনা বন্ধ রয়েছে। বেচাকেনা বন্ধ কানসাট আমবাজারে

চাষিরা জানান, বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচা-পাকা আম নিয়ে চাষীরা পড়েছেন উভয় সংকটে। অনেক আমচাষি বাজারে আম নিয়ে এসে বিক্রি করতে না পেরে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। আবার কোনও কোনও চাষি বলছেন, ৪৫ কেজিতে মন দিলেও কোনও কমিশন তারা দেবেন না। প্রশাসনের কাছে তারা দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।

কানসাট আম আড়তদার ঐক্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী এমদাদুল হক জানান, চিরাচরিতভাবেই কাঁচামাল হিসেবে ৪০ কেজির স্থলে ৪৬ কেজি হিসেবে আম বেচা-কেনা হয়ে আসছে। এছাড়া ব্যাপারিদের টাকা এবং আমের নিরাপত্তাস্বরূপ মন প্রতি কমিশন পেয়ে থাকে আড়তদাররা। কিন্তু জেলা প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত (৪০ কেজিতে মন এবং আড়তদারদের কমিশন নেওয়া বন্ধ) কার্যকর করায় বাধ্য হয়েই আড়তদাররা আম কেনা বন্ধ রেখেছেন। সংকট নিরসনে সব পক্ষকে  নিয়ে আলোচনার  উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান আড়তদার ও ব্যাপারিরা।

ঢাকার আম ব্যাপারি রহমতুল্লাহ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে কানসাট থেকে আম কিনে আসছি। কিন্ত গত তিন দিন ধরে ওজন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় আম কিনতে পারছি না। তবে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রহনপুর ও ভোলাহাট থেকে ৪৭ ও ৪৮ কেজিতে মণে আম কিনে ঢাকা পাঠাচ্ছি।’

আম ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, ‘গত বছর এ সময় প্রতিদিন ১’শ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয়েছে। আম বোঝাই ২/৩শ’ ট্রাকই প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গেছে। তবে এবার অনেকে আম পাড়া বন্ধ  রেখেছে। অনেক ট্রাক বসে আছে।’

কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. বেনাউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার (৬ জুন) তাকে আহ্বায়ক করে এ উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যেই এ সংকট নিরসন করা হবে।’

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রান্তিক চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি ৪০ কেজিতে মন এবং আড়তদারদের কমিশন নেওয়া বন্ধে প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকরে অনড় রয়েছেন তারা। তবে আড়তদার ও আমচাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সে ব্যাপারে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে তা সমাধান করা হবে।

/এফএস/ 

আরও পড়ুন- 

ফিরে আসার উপায় নেই লংগদুর ধ্বংসস্তূপে
পূর্বাচলের ডোবা থেকে রকেট লঞ্চারের সেল উদ্ধার

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম