দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম নৌরুট পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচে পরা ভিড়। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে যানবাহনের মাত্রারিক্ত চাপ। ১৮টি ফেরি বিরামহীন যানবাহন পারাপার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহন না থাকায় খালি ফেরি ফিরছে পাটুরিয়া ঘাটে। ফেরি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্রোতের মতো হাজারো মানুষ উঠে পরছে ফেরিতে। তিন তলা ফেরির নিচ থেকে উপর পর্যন্ত তিল ধারনের ঠাঁই নেই। যেখানে একটি রোরো ফেরি একবারে শুধু প্রাইভেটকার পার করতে পারে ৫২টি। সেখানে অতিরিক্ত যাত্রী উঠার কারণে তিন থেকে চারটি অনেক সময় দুটির বেশি যানবাহন পার করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া ব্যারিকেড দিয়েও ফেরিতে অতিরিক্ত মানুষ উঠা ঠেকাতে পারছে না।
সরেজমিনে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে অনেক ফেরি যানবাহনের পরিবর্তে শুধু যাত্রী নিয়ে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তবে দুপুরের পরে অবশ্য যাত্রীর চাপ কিছুটা কম দেখা গেছে।
পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটে কর্তব্যরত ম্যানেজার তানভীর হোসেন জানান, ‘গত রাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। যাত্রীর এতোটাই চাপ ছিল যে ফেরিতে যানবাহন উঠানোই মুসকিল ছিল। রোরো ফেরি গোলাম মাওলায় শুধু ২টি ছোট প্রাইভেটকার দিতে পেরেছিলাম। বাকী সব স্থানে গিজগিজ করছিল যাত্রী। ওই ফেরিতে সব মিলিয়ে চার হাজার যাত্রী উঠেছিল ।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাটুরিয়া ফেরি ঘাট থেকে ঢাকা আরিচা সড়কে ১০ কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির লাইন দেখা গেছে।
শুক্রবার ভোর থেকে ক্রমশ বাড়তে থাকে গাড়ির লাইন। পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী কোচের সারি ১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে ছোট গাড়িরও রয়েছে ৫ কিলোমিটারের বেশি সারি।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আজমল হোসেন জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদকে সামনে রেখে নয়টি রো-রো, ছয়টি ইউটিলিটি ও তিনটি কেটাইপ ফেরি চলাচল করছে। শুক্রবার সকালে থেকে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিরামহীনভাবে ফেরি চলাচল করলে, বিকাল নাগাত গাড়ির চাপ নিয়ন্ত্রণের আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যানবাহন ও যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ঘাটসহ ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জেরর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। গাড়ির লম্বা লাইনের কথা স্বিকার করে তিনি জানান, সাড়িবদ্ধ থাকার কারণে অভ্যন্তরীণ জটলা সৃষ্টি হচ্ছে না। লাইনে থেকে গাড়িগুলো ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন: আতঙ্ক ছড়াতেই গরুর হাটে বোমা সদৃশ বস্তু








