মুন্সীগঞ্জের পাইকারী ও খুচরা চাল ব্যবসায়ী এবং অটোরাইস মিল মালিকদের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিতে বলা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা লাইসেন্স না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।
এদিকে লাইসেন্স নেওয়ায় ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা করার জন্য তাদের ‘ফুড লাইসেন্স’ ও ‘ট্রেড লাইসেন্স’ থাকার পরও কেন আবার লাইসেন্স নিতে হবে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বুঝতে পারছেন না তারা। আবার তাদের কেউ কেউ লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়টি এখনও জানেন না।
মুন্সীগঞ্জ বাজারের খুচরা চাল ব্যবসায়ী মো. নিজামউদ্দিন বলেন, আমাদের ‘ফুড লাইসেন্স’ ও ‘ট্রেড লাইসেন্স’ নেওয়া আছে। আবার লাইসেন্স লাগবে কেন?
আরেক খুচরা চাল ব্যবসায়ী মো. মনির উদ্দিন বলেন, লাইসেন্স আমাদের আগে থেকেই আছে। নতুন করে করা লাগবে কিনা খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। তবে অনেক মুদি দোকানেও চাল বেঁচে। ওদের বোধ হয় লাইসেন্স নেই।
মুন্সীরহাটের চাল ব্যবসায়ী পাপ্পু সাহা জানান, শুধু চালের ব্যবসার জন্য তাদের আলাদা কোনও লাইসেন্স নেই। তবে ফুড লাইসেন্স রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের বিনোদপুরের পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক আগে থেকেই তাদের ফুড লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে।
হক রাইস ট্রেডার্সের মালিক আয়নাল হক বলেন, লাইসেন্স ছাড়াতো আমরা ব্যবসা করি না। তবে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে কিনা জানি না। অবশ্য খবরে দেখছি লাইসেন্সের কথা। সে বিষয়ে খোঁজ করে জানতে হবে।
আলাউদ্দিন অটোরাইস মিল মালিক কবীর হোসেন বলেন, মুন্সীগঞ্জে ৬টি রাইস মিল রয়েছে। তবে এখন ধানের দাম বেশি হওয়ায় চাল উৎপাদন করে পোষায় না। তাই মিলগুলো প্রায় বন্ধ আছে। আমাদের লাইসেন্স রয়েছে। তবু সরকার যদি নতুন করে লাইসেন্স নিতে বলে তাহলে নেবো। সরকার নিশ্চয়ই দেশের ভালোর জন্যই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আবু বকর বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ীর লাইসেন্স থাকলেও সবার লাইসেন্স নেই। আমরা নোটিশ করবো। আর যদি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স না নেয় তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সব ধরনের চাল ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও মজুদদারকে খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিতে বলেন। এছাড়া ১৫ দিন পর মজুদ করা চালের ব্যাপারে স্থানীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতরে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।








