নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে অভিযান চালিয়ে পাইরেসি চক্রের ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সদস্যরা। জব্দ করা হয়েছে পাইরেসি কাজে ব্যবহৃত ২৯টি মনিটর, ২৯টি সিপিইউ, একটি হার্ড ডিস্ক ও ৬ হাজার ৯শ’ ৪টি পাইরেসি ও পর্ণোগ্রাফি সিডি। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা ও পাইরেসি বিরোধী টাস্কফোর্সের সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার বেলা ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কামরুল হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- র্যাব-১১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন, মশিউর রহমান, চিত্র নায়িকা অঞ্জনা সুলতানা, চিত্র নায়ক বাপ্পি চৌধুরী, চিত্র নায়িকা তানিম সুভা, কণ্ঠশিল্পী আতিক ডালিম, শারমিন দিপু প্রমুখ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- হাবিব, কামরুল ইসলাম, সুনীল দাস, সাইদুর রহমান, সাইফউদ্দিন, রুমান, মামুন, রাজীব চন্দ্র দাস, ফিরোজ, বিপ্লব, আল মামুন, সুমন সরকার, খোরশেদ আলম, স্বপন, সৌরভ চৌধুরী, সোহেল, কাউসার, সুমন, জয়েনউদ্দিন জয়নাল, জহিরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন শিপলু, নাহিদ হোসেন ও এনামুল হক। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া মার্কেট ও তাঁতবাজার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি ও পাইরেসি সঙ্গে জড়িত ওই ২৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে পাইরেসি ও পর্ণোগ্রাফি কাজে ব্যবহৃত ২৯টি কম্পিউটির ও সিপিইউ ও একটি হার্ড ডিস্ক। এছাড়া অপর একটি অভিযানে সোনারগাঁওয়ে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৯শ’ ৪টি পাইরেটেড সিডি উদ্ধার করে র্যাব। গ্রেফকারকৃতরা পাইরেসি ও পর্ণোগ্রাফির সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সিনেমা হলে ঢুকে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে সিনেমাগুলো ধারণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। কোনও কোনও সিনেমা হলের কর্মচারীরা এদের সহায়তা করে। এসব ভিডিওয়ের সঙ্গে অশ্লীল ছবির অংশ সংযোজন করে মোবাইল, পেন ড্রাইভ, হার্ড ডিস্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা ও সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ছবিও তারা এডিটিং করে একাজে ব্যবহার করে।
সংবাদ সম্মেলনে নায়িকা অঞ্জনা সুলতান বলেন,‘পাইরেসির কারণে চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িতরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে আমাদের দেশে ১৪শ’র বেশি সিনেমা হল ছিল তা কমে এখন ২শ’ দাঁড়িয়েছে। অথচ আমাদের পাশের দেশে হলের সংখ্যা বাড়ছে।’ পাইরেসির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে তিনি ফাঁসির দাবি করেন।
চিত্র নায়ক বাপ্পি চৌধুরী বলেন, ‘পাইরেসির কারণে চলচ্চিত্র জিম্মি হয়ে পড়েছে। একটি ছবি বানাতে দুই থেকে তিন কোটি টাকা খরচ হলেও পাইরেসির কারণে সেই ছবির টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। তিনি দেশীয় সংস্কৃতি বাঁচাতে পাইরেসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আহ্বান জানান।’
আরও পড়ুন: আগে কেউ কাছেই আসতেন না, এখন অনেকেই দেখতে আসেন: মুক্তমনি








