নারায়ণগঞ্জ বন্দরে তিন এসআইয়ের বিরুদ্ধে ১৩ যুবককে আটকের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। থার্টি ফাস্ট নাইটে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে আনন্দ করার সময় তাদের আটক করা হয়। সোমবার ভোরে উপজেলার মাহমুদনগরে এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষ্যে উপজেলার মাহমুদনগরে স্থানীয় টগর মিয়ার বাড়িতে গান বাজনা ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করে আনন্দ উল্লাস করে স্থানীয় যুবক জনি (৩০), রাহাত (৩০), সেলিম (৩৮), মাসুদ (৩৩), শাহীন (৩০), আরিফ (৩২), সোহেল (৩১), শফিক (৩২), টগর (৩২), কপিল (৩৪), টিটু (৩০), মিথুন (৩০) ও বাপ্পি (৩২)। ভোরে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস হোসেন, রাশেদুল ও আনোয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। পরে তাদের মারধর করে পুলিশের পিকআপভ্যানে তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ ও জাতীয় পার্টি নেতা হুমায়ুন কবির থানায় গিয়ে ওই তিন এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করেন। ওসি অভিযুক্ত তিন এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ বলেন, ‘জুয়া খেলার অভিযোগে ওই যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তারা করেছে। ওই যুবকদের স্বজনরা এসে আমার কাছে জানায়, পুলিশ তাদের মাহমুদনগর থেকে আটক করে পার্শ্ববর্তী সোনাকান্দা এলাকায় নিয়ে গেল কেন? এ বিষয়টি আমি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালেন তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’
তবে অভিযুক্ত বন্দর থানার এস আই আনোয়ার হোসেন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই যুবকরা ওই বাড়িতে বসে তাস খেলছিল ও মদ পান করছিল। তারা ফৌজদারী কার্য বিধির ৩৪ ধারায় অপরাধ করায় তাদের আটক করা হয়।পরে তাদের আত্মীয় স্বজনদের অনুরোধে ও মানবিক কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে এগুলো মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, এই ঘটনায় কেউ লিখিত কোনও অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত তিন এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








