আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজা পাওয়া এবং কারাগারে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় লাখ লাখ লোক রাস্তায় নামবে বলে অপেক্ষায় ছিল বিএনপি। কিন্তু জনগণের সাড়া না পেয়ে অক্ষমতার অজুহাত হিসেবে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কৌশল অবলম্বন করেছে।’
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় দ্বিতীয় কাচঁপুর সেতুর সুপার স্ট্রাকচার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসলে দুর্নীতির মামলায় সাজা ও বেগম জিয়া বন্দি হওয়ায় জনগণের যে কোনও সাড়া-শব্দ থাকবে না এটা বিএনপি কখনও ভাবেনি। সেখানেই তাদের ভুল। তারা অক্ষমতাকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করছে, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। ঢাকা সিটিতে প্রেস ক্লাবে, নয়াপল্টনে তারা মানববন্ধন-অনশনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। কোথাও পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘তারা আদালতের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছেন এটা তাদের মনে রাখাতে হবে। তাদের কর্মসূচি সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আদালতের বিরুদ্ধে কর্মসূচির পরও পুলিশ কোনও বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করেনি। আসলে বিএনপি যদি নিজেরাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় এবং সরে দাঁড়ানোর অজুহাত দেখাতে চায়, তাহলে আমাদের তো কিছু বলার নেই। আমরা বার বার একটা কথা বলেছি, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নিরামিষ নির্বাচনে যেতে চাই না। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কোনও অর্থই নেই। অর্থবহ নির্বাচনের জন্য আমরা অর্থবহ অংশগ্রহণ চাই। বিএনপি একটি বড় দল, সেখানে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির নেতারা একবার বলেন তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া যাবেন নাকি খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন সেটা তো আদালতের বিষয়। এখানে সরকারের কোনও বিষয় নেই। বিএনপির মহাসচিব বারবার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, আদালতের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না। কারণ, আদালত অবমাননা হবে। খালেদা জিয়ার রায় আদালতের আদেশ। এ আদেশ সরকারের নয়। এটা তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তারা নিজেরা যদি নির্বাচন থেকে সরে যায় সেটা তাদের ব্যাপার। সরকার তাদের (বিএনপিকে) নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কোনও প্রকার চেষ্টা করছে না।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া বা অন্য কোনও মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টসহ কোনও বিষয়ে সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই। যা হচ্ছে আদালতের আদেশে হচ্ছে।’
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সাথে উপস্থিত ছিলেন নির্মাণাধীন তিনটি সেতুর প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল হক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, হাইওয়ে পুলিশের এসপি শফিকুল ইসলাম, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের সহ অনেকে।








