মানিকগঞ্জ থেকে মো. জাহিদুল (১৩) নামে এক কিশোরকে অপহরণের মামলায় গ্রেফতার চার তরুণ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার দুপুরে তারা মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজনীন রেহানার আদালতে ৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পরে গ্রেফতার চারজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (৬ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে জাহিদুলকে অপহরণ করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসাবে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। জহিদুলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সিংগাইর থানা পুলিশ মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুরের মতলব থেকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত চার জনকে গ্রেফতার করে। একই সঙ্গে অপহৃত জাহিদুলকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত চার জন হচ্ছে, সিংগাইরের রাজু মণ্ডল, মো. রানা, বিল্লাল হোসেন এবং চাঁদপুরের হাসান প্রধান। অপহৃত জাহিদুলের বাবা কুদরত আলীর বাড়ি সিংগাইরের বানিয়ারা গ্রামে।
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সিংগাইর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, অপহরণ করার পর মোবাইল ফোনে জাহিদুলের বাবার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা পরিশোধের জন্য তাকে একটি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে জাহিদুলকে হত্যার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। জাহিদুলের বাবা ওই নাম্বারে দুই দফা ১১ হাজার টাকা পাঠান। পরে তিনি সিংগাইর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এসআই আনোয়ার হোসেন আরও জানান, মোবাইল ট্রেকিং করে জানা যায় চাঁদপুরের মতলবের ওয়ালিউল্লার নামে এক ব্যক্তির নামে বিকাশ নাম্বারটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। পরে গত শুক্রবার রাতে ওয়ালিউল্লার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তখন ওয়ালিউল্লা জানান, মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করছে তার ছেলে হাসান প্রধান। মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বোনকে দিয়ে ফোন করে হাসান প্রধানকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। সময় ওঁৎ পেতে থাকা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পৃথক স্থান থেকে বাকি তিন জনকে গ্রেফতার এবং জাহিদুলকে উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু: চার জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ২








