টাঙ্গাইলে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যা মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান (২৬) নামের একজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (০৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার এ রায় দেন। টাঙ্গাইল বিশেষ জজ আদালতের সরকারি আইনজীবী মুলতান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামের শমসের মল্লিকের ছেলে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তার অনুস্থিতিতেই আদালত এই রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুলতান উদ্দিন জানান, আমিনুল বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটিতে কর্মরত গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা ছিলেন। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার অফিস থেকে মোস্তাফিজুর ও এক নারী আমিনুলকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি ফিরে না আসায় তার স্ত্রী হোসনে আরা দুদিন পর (৬ এপ্রিল) আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ৫ এপ্রিল সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ব্রাহ্মণশাসন মহিলা কলেজের সামনে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়। ঘাটাইলে পরিচয়হীন লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমিনুলের স্ত্রী ও মেয়ে থানায় গিয়ে সংরক্ষিত ছবি দেখে আমিনুলকে শনাক্ত করেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে আমিনুলের মরদেহ ৯ এপ্রিল কবর থেকে তুলে তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার হিজলহাটি গ্রামে নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মামলাটি প্রথমে ঘাটাইল থানার এসআই আবুল বাশার ও পরে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দুলাল হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির তদন্ত করেন। সর্বশেষ সিআইডির ঢাকা মেট্রোপলিটনের কোতায়ালি ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবির তদন্তের দায়িত্ব পান। তদন্ত শেষে তিনি মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গোলাম মোস্তফা।
আরও পড়ুন: এইচএসসি পরীক্ষার বৃহস্পতিবারের উত্তরপত্র, শনিবার উদ্ধার







