ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী চেরাগ আলী থেকে দক্ষিণ সালনা পর্যন্ত যানজট গত ৮ দিনেও কমেনি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার কাজের জন্য এমন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগে গত ৫ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহানগর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে প্রায় ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে যানজট এখন প্রায় স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
গাজীপুর মহানগরের বড়বাড়ী এলাকার একগার্মেন্টস কর্মকর্তা মিলন বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় দক্ষিণ সালনা থেকে অনন্যা পরিবহনে উঠে রাত ১১টায় বড়বাড়ী পৌঁছেছি।’
ঢাকা-নেত্রকোনা মহাসড়কের গ্রীণলাইন পরিবহনের চালক মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ সালনা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার পথ যেতে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা।’
পরীক্ষার্থী রোজী সুলতানা বলেন, ‘চান্দনা চৌরাস্তার তিন কিলোমিটার উত্তর দিক থেকে যানজটটি শুরু হয়। পরীক্ষার সময় সংকুলানের অভাবে দক্ষিণ সালনা এলাকায় বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে চান্দনা চৌরাস্তা পৌঁছেছি।’
বাস চালক কৃষ্ণ বলেন, ‘রাস্তার ওপর ড্রেনের ময়লা পানি এসে উঠছে। যান চলাচলে জায়গা কমে গেছে। চার লেনের সড়কে এখন বেশিরভাগ অংশে দুই লেন ব্যবহার হচ্ছে। ফলে যানজট গত কয়েকদিনে স্থায়ী হয়ে পড়েছে।’
খাজা মাইনুদ্দীন চিশতিয়া রেডিও ওয়াটার এর মালিক আবুল বাশার বলেন, সড়কের ড্রেনে আবর্জনা জমে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে।
ড্রেন উন্নয়ন কাজের নিয়োজিত অপারেটর শাহাদাত হোসেন জানান, ড্রেনের জায়গায় ড্রেন হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণকাজের সময় কোনও পানি সড়কে উঠছে না।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ অহিদুজ্জামান বলেন, ড্রেনের নির্মাণকাজের জন্য এবং গত কয়েকদিন সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপ রয়েছে। ফলে যানজট হচ্ছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলাম জানান, ত্রিশ লাখ লোকের সিটি করপোরেশনে মাত্র তিন’শ কর্মী কাজ করছে। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অনেক কম। তবুও সাধ্য অনুযায়ী সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে।’
বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নূরে আলম জুয়েল জানান, টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে জয়দেবপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত মোট ২০টি স্থানে ড্রেনের উন্নয়ন সংস্কারের কাজ চলছে। এ কাজ চলতি বছরেই শেষ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ যাতে না হয় সেভাবেই কাজটি শেষ করার চেষ্টা চলছে। কাজ চলাকালীন সড়কের দুইপাশে সব সময় চার লেন সচল রয়েছে। মাটি খননে এস্কাভেটর ঘোরানোর সময় বা ট্রাক লোড করে মাটি নেওয়ার সময় কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।’








