গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক সঙ্কটের কারণে কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে উঠাতে পারছে না। একদিকে কৃষি শ্রমিক সঙ্কট, অন্যদিকে শ্রমের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। শ্রমিক সঙ্কটের কারণে তারা উৎপাদিত কৃষি পণ্য সঠিক সময় ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বাউনি গ্রামের কৃষক হামিদুল হক জানান, নিজের জমি না থাকায় স্থানীয় এক মহাজনের কাছ থেকে আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এর ফলে তার ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নেক ব্লস্টের আক্রমনে ফসলের ক্ষতি হলেও কপাল ভালো থাকায় সপ্তাহখানেক হলো তার অর্ধেকের বেশি ধান পেঁকে গেছে। অতিরিক্ত মুজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে পাকা ধান ঘরে উঠাতে পারছেন না। তার ওপর গত কয়েকদিন ধরে শীলা বৃষ্টি ও ঝড় তার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক মেহেদী হাসান। প্রায় ১০/১২ দিন হলো তার জমির ধান পাকা শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত মুজুরি ও শ্রমিক সঙ্কট থাকার কারণে তিনি ধান কাটা শুরু করতে পারেননি।
একই অবস্থা গাজীপুরের শ্রীপুরের কৃষক হামিদুলেরও। তিনি জানান,‘ঘুম কেড়ে নিয়েছে এ অতিরিক্ত মুজুরি। অতিরিক্ত টাকায় শ্রমিক নিতে পারছেন না। তাই পাকা ফসলও ঘরে তুলতে পারছেন না।
গোসিঙ্গা ইউনিয়নের দড়ি খোঁজেখানী গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, শ্রমিক সঙ্কটের কারণে তার চার বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে অনেক টাকা খরচ হবে। যে কারণে ধান বিক্রি করে তার কোনও লাভ থাকবে না।
এক বিঘা জমির ধান কাটার জন্য চার হাজার টাকা প্রয়োজন, টাকা জোগার করতে না পারায় এখনো ধান কাটা শুরু করতে পারেননি বলে জানান তেলিহাটি গ্রামের কৃষানী উম্মে কুলসুম। এ কারণে তিনি চোখে অন্ধকার দেখছেন বলে জানান।
গত তিন দিন ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ধান কাটছেন মাওনা ইউনিয়নের ষাটোর্ধ কৃষক আহমদ আলী। তিনি জানান, জমিতে পাকা ধান রেখে ঘুম আসে না। যে কোনও সময় শীলা বৃষ্টি ও ঝড়ের ফসলের ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত মুজুরি দিয়ে শ্রমিক না নিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই ধান কাটা শুরু করেছেন বলে জানান।
শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের কৃষক আজমল মিয়া জানান, এ এলাকায় অতি দ্রুত শিল্প-কারখানা গড়ে উঠায় কৃষি শ্রমিকের সঙ্কাট দেখা দিয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নে ১২ হাজার ১শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ভালো ফলন হলেও শেষ মুহূর্তে নেক ব্লাস্টের আক্রমনে ফলন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক সময় ধান ঘরে তুলতে পারলে কৃষকরা ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসান বলেন, ‘বর্তমান বাজারে কৃষি শ্রমিক সঙ্কট অন্যতম একটি সমস্যা। এ সঙ্কট মোকাবেলায় কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ তার। এছাড়াও বোরো মৌসুমের ফসল ঘরে তোলার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখন পর্যন্ত শ্রীপুরে দুর্যোগের কবলে পড়েনি কৃষকরা। তবে ধান পেঁকে গেলে সতর্কতার সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব ঘরে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।’








