গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌতুকের জন্য ঝুমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা পর ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের ছমির উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহত ঝুমা উপজেলার বরমী এলাকার ফজর আলীর মেয়ে।
নিহতের বাবা ফজর আলী জানান, তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের বালিয়াপাড়ার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়ার সঙ্গে সাত মাস আগে ঝুমার বিয়ে দেন। ওই সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাইকে ব্যবসা করার জন্য দেড় লাখ টাকা দেন। পরে তার জামাই আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার জন্য ঝুমাকে নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে ঝুমা মাহদিন সোয়েটার কারখানায় চাকরি নেয়। নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য বেতনের সব টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতো সে। তারপরও সোহাগ যৌতুকের জন্য ঝুমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যায়। সম্প্রতি তার মেয়েকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। ঝুমা তা এনে দিতে অস্বীকার করায় শনিবার রাতে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।
বাড়ির মালিক ছমির উদ্দিন জানান, ‘তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। রবিবার সকালে এলাকাবাসীকে সোহাগ জানায়, তার স্ত্রী তাকে ঘুমে রেখে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরনার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। পরে এলাকাবাসী সোহাগকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করা হয়েছে। লাশের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বামী সোহাগকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








