মাদারীপুরে গৃহবধূ শাহাজাদীকে গলা কেটে হত্যার পর নির্জন স্থানে পুতে রাখার ঘটনায় স্বামী ও তার দুই বন্ধুর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মাদারীপুরের জেলা ও দায়রা জজ শরীফ উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু সরদার ও নাঈম খানের উপস্থিতিতে আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। অপর আসামি উজ্জ্বল খান পলাতক রয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর গ্রামের বাবু সরদারের সঙ্গে মাদারীপুর শহরের রকেটবিড়ি এলাকার শাহআলম খানের মেয়ে শাহাজাদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই মধ্যে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সেই অবস্থাতেই বাবু সরদারের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাসের মাথায় শাহাজাদী সন্তান প্রসব করে। দুই দিনের নবজাতক কন্যা সন্তানকে মাদারীপুর শহরের দরগাহশরীফ এলাকার বাসায় রেখে ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই গৃহবধূ শাহাজাদীকে গলা থেকে মাথা কেছে বিচ্ছিন্ন করে হত্যার পর মাথা নদীতে ফেলে দিয়ে দেহ মাদারীপুরের পাঁচখোলা এলাকার নির্জন চরের মাটিতে পুতে রাখে। শাহাজাদীর পরিবার তার কথা জিজ্ঞেস করলে বাবু জানায়, সে আড়িয়াল খাঁ নদীতে পড়ে গেছে। ১২ দিন পর পাঁচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় একটি ধৈঞ্চা ক্ষেতে একটি নারীর পায়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। মাথা বিছিন্ন হলেও শাহাজাদির পরিবারের লোকজন পরনের পোষাক দেখে লাশ সনাক্ত করে ।
পরে শাহাজাদীর মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শাহাজাদীর স্বামী বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে বাবু দুই বন্ধু মাদারীপুর শহরের নাঈম খান ও উজ্জ্বলকে নিয়ে শাহাজাদীকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
মাদারীপুর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট এমরান লতিফ জানান,মামলার রায়ে বিচারক অপর দুই আসামি বাবু সরদারের বাবা খালেক সরদার ও মা মেহেরজানকে খালাস দিয়েছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বাবু ও নাঈম কারাগারে থাকলেও উজ্জ্বল পলাতক রয়েছে। আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








