জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সহযোগিতায় অটোভ্যান পেয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন কোটালীপাড়ার শহিদুল ইসলাম। এছাড়া তার স্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার তারাশী গ্রামের জ্ঞানের আলো পাঠাগার চত্বরে তাদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ভ্যান ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগারের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এই প্রতিষ্ঠানের কিশোর-যুবকেরা দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠাগারের সদস্যদের সহযোগিতায় একটি নিঃস্ব পরিবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্বল পেলো।’
জ্ঞানের আলো পাঠাগার সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে তৈরি করা ভ্যান চালিয়ে সংসার চলছিল তারাশী গ্রামের শহিদুল ইসলামের। এক মাস আগে ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়ে ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যান শহিদুল। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। এনজিওর কিস্তির টাকা ও সংসারের খরচ যোগাতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তার এই দুর্দশার খবর জানতে পেরে এগিয়ে আসে কোটালীপাড়ার অলাভজনক সামাজিক সংগঠন ‘জ্ঞানের আলো’ পাঠাগারের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শহিদুলের জন্য আর্থিক সহায়তা চায় তারা। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই আর্থিক সহায়তা দেন। সেই টাকা দিয়ে শহিদুলকে একটি অটো ভ্যান ও তার স্ত্রীকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া হয়।
ভ্যান এবং সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগে আপ্লুত শহিদুল ও তার স্ত্রী বলেন, ভ্যানটি ছিনতাইয়ের পর স্ত্রী সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছিল। একে তো আয় নেই, তার ওপর কিস্তির টাকা ও সংসার খরচ সব মিলিয়ে দুনিয়াটাই আমার কাছে আন্ধার (অন্ধকার)মনে হয়। জ্ঞানের আলো পাঠাগার আজ আমাকে শুধু ভ্যান ও সেলাই মেশিন দেয়নি পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে।
জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডলের সভাপতিত্বে ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সন্দিপ সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক, হিরণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কিবরিয়া দাড়িয়া, কোটালীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বুলু, পাঠাগারের নির্বাহী পরিচালক রাকিবুল ইসলাম তালুকদার, ইউপি সদস্য শাহানুর শেখ ও মোসলেম উদ্দিন শেখ প্রমুখ।








