ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’র অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক মাইদুল ইসলামের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রতিবাদে মুখে ও বাহুতে কালো কাপড় বেঁধে ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৪০মিনিট থেকে ৫টা ৪০মিনিট পর্যন্ত কলা ও মানবিকী অনুষদের (সি ইউনিট) শেষ শিফটের ভর্তি পরীক্ষায় এ প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন শিক্ষকরা।
এর আগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় মাইদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দুপুরে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম এস এম শহীদুল্লাহ কায়সার। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ এবং বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘শিক্ষক মঞ্চ’ এতে একাত্মতা প্রকাশ করে। কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষককেও কমূর্সচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘যেভাবে ভিন্নমত দমন-পীড়ন করা হচ্ছে তা নজিরবিহীন। আমরা মনে করি দল-মত নির্বিশেষে সকলের তরফ থেকে এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করা উচিৎ।’
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীকে যেভাবে হাতকড়া পড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হলো তা মানার মতো না। এ অবস্থায় আমরা চুপ থাকতে পারি না।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দায়িত্বও পালন করছি একই সাথে প্রতিবাদও জানিয়েছি।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা সমাজ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবো। আমার মত অন্যের মতের সাথে নাও মিলতে পারে। আমাকে কথা বলতে না দিলে তা হবে মেরে ফেলার শামিল।’
আগামীকাল মঙ্গলবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান শিক্ষকরা।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’র অভিযোগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন ইফতেখারুল ইসলাম নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। মামলা দায়েরের পর হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নেন মাইদুল। জামিনের মেয়াদ শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।








