গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে নিজ বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসার অভিযোগে ইয়াবাসহ আটক আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি আহসান হাবীব নাহিদকে (২৮) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সাদুল্যাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার পর নাহিদকে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
এর আগে সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩) গাইবান্ধা ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের পশ্চিমপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। এ সময় তার সহযোগী আহাদ মিয়াকেও (২৫) আটক করা হয়। অভিযানের সময় নাহিদ ও আহাদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আহসান হাবীব নাহিদ সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি। নাহিদ পশ্চিমপাড়ার নুরুল আমিনের ছেলে। এছাড়া তার সহযোগী আব্দুল আহাদ মিয়া টিয়াগাছা ভবানীপুর গ্রামের মৃত নেয়ামত আলীর ছেলে।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এমরানুল কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাহিদ নিজ বাড়িতে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিলেন। চতুর নাহিদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে মাদক ব্যবসার জন্য নিজ বাড়ির প্রবেশমুখে সিসি ক্যামেরা লাগায়। মূলত সিসি ক্যামেরার দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি দেখা হতো। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা সিসি ক্যামেরা চালু রেখে মাদক ক্রেতাদেরও নজরদারি করা হতো। সোমবার দুপুরে র্যাবের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নাহিদ ও তার সহযোগী আহাদকে আটক করে।
তিনি আরও জানান, নাহিদকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব সদস্যরা। পরে তাকে সাদুল্যাপুর থানায় হস্তান্তর করে ওই বাসায় তল্লাশি চালায় র্যাব। তবে তল্লাশি করে তারা বাড়ি থেকে ইয়াবা ছাড়া আর কিছু উদ্ধার করতে পারেনি। নাহিদের বিরুদ্ধে সাদুল্যাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নাহিদ কীভাবে, কার মাধ্যমে ইয়াবা এনে ব্যবসা করতো তা তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া নাহিদের কাছ থেকে কারা ইয়াবা কিনতো এবং তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও তার বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। তখন নাহিদ পলাতক থাকায় তার বাড়ির সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলা হয়। পরে নাহিদ আবারও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে।








