আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনি ইশতেহারে আদিবাসী অধিকার ইস্যু অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ আদিবাসী সংগঠন ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করেছে। রবিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে তারা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, দেশে ৪৫টি সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ লাখ আদিবাসী বসবাস করে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি-কালচার, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার আচরণ ও খাবার-দাবারসহ নিজস্ব একটা ঐতিহ্য রয়েছে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর থেকে তারা আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। আর বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আধিবাসী সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। বিশেষ করে সমতল এলাকার অধিবাসীরা চরমভাবে অস্তিত্ব সংকটে। বিভিন্ন সময় ও প্রেক্ষাপটে আদিবাসীদের ওপর চলছে নানাবিধ নিপীড়ন ও নির্যাতন। ফলে আদিবাসীরা ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। অনেক সময় বেঁচে থাকার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এ জাতি দেশান্তরী হতেও বাধ্য হচ্ছে। সরকার আদিবাসীদের জন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আইন প্রণয়ন করলেও সেখানে প্রত্যেক গোত্রীয় আদিবাসীকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এতে করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অবহেলা ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের মাধ্যমে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন ও অস্তিত্বকে প্রকারান্তরে অস্বীকার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকারগুলো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ আদিবাসী সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা ভদ্র ম্রং, যুগ্ম আহবায়ক অজয় মৃ, মহাসচিব অরণ্য-ই-চিরান, জয়েনশাহী আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের সভাপতি লিংকন ডিব্রা, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি বানাড হাজং, হাজং ছাত্র সংগঠনের সভাপতি জিতেন্দ্র হাজং প্রমুখ।








