টাঙ্গাইল জেলায় দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মির্জাপুরের ইউএনও ইসরাত সাদমীন। ২০১৭ সালেও তিনি শ্রেষ্ঠ ইউএনও মনোনীত হন। সমাজ উন্নয়ন, বাল্যবিয়ে নিরোধ, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়নসহ বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে শ্রেষ্ঠ ইউএনও মনোনীত করা হয়।
ইউএনও ইসরাত সাদমীন বিসিএস ২৮তম ব্যাচের ক্যাডার। তিনি মির্জাপুর উপজেলায় ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি যোগ দেন।
ইউএনও ইসরাত সাদমীন ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করি, সুখী সমৃদ্ধ জীবন গড়ি’ এই স্লোগান নিয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে উপজেলার ৩৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘কিশোরী ক্লাব’ গঠন এবং ‘কন্যা সাহসিকা’ নামের ১৭ টিম তৈরি করেন। সাহসিকা টিম ও ক্লাবের সদস্যদের বাল্যবিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালারও ব্যবস্থা করেন। এসব ক্লাব ও সাহসিকা টিমের সহযোগিতায় তিনি প্রায় ৩শটি বাল্যবিয়ে ঠেকিয়েছেন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সহযোগিতা করায় ‘কন্যা সাহসিকা’ টিমের ৩০জন ছাত্রীকে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে বাইসাইকেল দিয়েছেন। তিনি হিজড়াদের জীবনমুখী প্রশিক্ষণ ও তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। উপজেলার জামুর্কী বাজার সংলগ্ন পরিত্যক্ত পুরাতন উপজেলা ভূমি অফিসের ভবন ও জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দখলে ছিল। পরে তিনি এই সাড়ে ছয় একর সরকারি জায়গা বেদখলের হাত থেকে রক্ষা করে বিনোদনের জন্য ‘অবসর নন্দিনী’ পার্ক তৈরি করেন। তিনি এই পার্কে ‘গ্রন্থ বিটপি’ নামে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। এই গ্রন্থাগারে সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, আইসিটি এবং আইনকানুন বিষয়ে চারটি কর্ণার স্থাপন করেন। তিনি শিশুদের জন্য উপজেলার সরিষাদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বর্ণমালা’ নামে একটি পার্ক স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধ, নারীর ক্ষমতায়ন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন।
সম্প্রতি ইউএনও ইসরাত সাদমীন বদলি হয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় যোগ দিয়েছেন।
ইউএনও ইসরাত সাদমীন বলেন, ‘মির্জাপুরের সচেতন মহলের সহযোগিতায় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। তাদের সহযোগিতার কারণে অনেক কাজে সফলও হয়েছি। ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কৃত হলে মানুষের উৎসাহটা বেড়ে যায়। তখন অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে না পারলে উন্নত বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই থেকে যাবে। বাল্যবিয়ের কারণে পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি নারী এখনও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। লাখ লাখ মেয়ে শিশু পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার আগেই বিয়ে এবং বাধ্যতামূলক গর্ভধারণের শিকার হচ্ছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন করতে হবে পিতা-মাতাকে। বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে। তাহলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’
আরও পড়ুন: লামার ইউএনও বান্দরবান জেলায় শ্রেষ্ঠ








