ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতুকে টোলমুক্ত রাখার দাবিতে আন্দোলনরত সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকচালকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৮১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মো. আশরাফ বাদী হয়ে গত শনিবার (২৭ অক্টোবর) রাতেই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশকে হত্যার চেষ্টা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনও তথ্য দেয়নি পুলিশ। তবে ট্রাক শ্রমিক মো. সোহেল (২৯) নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।
একটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার নিহত সোহেলের শ্বশুর মো. মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে ইজারাদারকে প্রধান আসামি করে ৫০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন। পরে অজ্ঞাত কারণে তিনি মামলার কার্যক্রম মুলতবি রেখে এজাহারের কপি থানা থেকে নিয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মামলার এজাহারের কপি নিহত সোহেলের শ্বশুর থানা থেকে নিয়ে গেছে কিনা তা আমি জানি না।’
অন্যদিকে শনিবার রাতে মামলা হওয়ায় হাসনাবাদ ও ইকুরিয়া এলাকায় রবিবারও থমথমে অবস্থা বিরাজ করেছে। এই ঘটনায় কে বা কারা আসামি হয়েছে সেই আতঙ্কে অনেক শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এখনও চুপ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে যাদের নেতৃত্বে এই টোলমুক্ত আন্দোলন চলে আসছিল তারাও এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত টোল না দিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। তবে রবিবার (২৮ অক্টোবর) পরিবহন ধর্মঘট থাকার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে কোনও যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এমনকি সিএনজি অটোরিকশাও চলাচল করেনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামান জানান, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশকে হত্যার চেষ্টা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
নিহত সোহেলের ঘটনায় থানায় কোনও মামলার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সোহেলের শ্বশুর মামলার যে এজাহার থানায় দিয়েছিল সেটা সংশোধনের জন্য তিনি আবার নিয়ে গেছেন। গ্রামের বাড়িতে লাশের দাফন-কাফন শেষে সোহেলের স্বজনরা কেরানীগঞ্জে এসে আরও একটি মামলা দায়ের করবেন।
তিনি আরও জানান, যারা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হবে। জড়িতদের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।







