আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে শরীয়তপুর-২ নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির ২৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সোমবার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. মানিক। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে বিএনপির দাবি এ মুহূর্তে নেতাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখা, আতঙ্ক সৃষ্টি ও হয়রানির জন্যই মিথ্যা এ সব মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
শরীয়তপুর-২ আসনটি নড়িয়া উপজেলা ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানার নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ওই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম। আর বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ। মামলার আসামিরা সবাই সফিকুর রহমানের সমর্থক। মামলার বাদী এনামুল হক শামীমের সমর্থক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মাল বাজার এলাকায় এনামুল হক শামীমের সমর্থনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা চলছিল। তখন সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত বেপারির নেতৃত্বে বিএনপির ৬০-৬৫ নেতাকর্মী ওই বর্ধিত সভায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই নেতা আহত হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার সখিপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. মানিক।
মামলার আসামিরা হলেন,আরশিনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হক নান্টু মালত, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ মাসুম বালা, বিএনপি নেতা ও দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুদ্দিন দর্জি, সখিপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মানিক বকাউল, সখিপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত বেপারি, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজিব সরদার, বিএনপি নেতা ও দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোতালেব মাল, সখিপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি নিহাদ সরদার, সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইউসুফ জিসান বালা, দক্ষিণ তারা বুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ওসমান তাঁতী ও সাধারণ সম্পাদক কামাল বেপারিসহ ২৭ জন।
সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ মাসুম বালা বলেন,‘এটি একটি মিথ্যা মামলা। ওই দিন মামলার কোনও আসামি ঘটনাস্থলে ছিল না। সেদিন শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরনের বাড়িতে বিএনপির একটি ঘরোয়া সভা ছিল। এই অঞ্চলের সব নেতাকর্মীরা সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আচরণ বিধি ভেঙে বিভিন্ন স্থানে মিছিল মিটিং করছেন। আর আমরা যাতে প্রচার-প্রচারণা করতে না পারি এবং নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে থাকি এ কারণে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন,‘মামলার আসামি দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মামুন চৌধুরী এক বছর ধরে সৌদি আরব আছেন। তাকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. মানিক বলেন,‘আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিএনপির নেতাকর্মীরা পাঁচ-ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা করেছেন। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য মামলাটি করা হয়েছে। ’
এ বিষয়ে সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর মোল্যা প্রথম আলোকে বলেন,‘বিএনপি সন্ত্রাসী দল। তারা ককটেল হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ক্ষতি করতে চাচ্ছিল। তারা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়।’
সখিপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন,‘দক্ষিণ তারাবুনিয়ায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় মানিক শেখ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আর দেশের বাহিরে থাকা কোনও ব্যক্তি আসামি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।'







